• ঢাকা সোমবার
    ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২

এবার ইরানে সরকারের পক্ষে রাস্তায় লাখো মানুষ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম

এবার ইরানে সরকারের পক্ষে রাস্তায় লাখো মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কিছুদিন ধরে ইরানে সরকারের বিরুদ্ধে সহিংস বিক্ষোভের পর এবার দেশের বিভিন্ন শহরে সরকারের পক্ষে রাজপথে নেমেছে লাখো মানুষ।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ খামেনীর নেতৃত্বাধীন সরকারের সমর্থনে দেশটির বিভিন্ন শহরে বিপুল জনসমাগম হয়েছে।

কেরমান ও জাহেদানসহ বিভিন্ন শহরের বিক্ষোভে মানুষকে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনীর ছবি বহন করতে দেখা যায়। তাদের হাতে ছিল পবিত্র কোরআন এবং জাতীয় পতাকা।

রাষ্ট্রীয় প্রেস টিভি জানিয়েছে, কেরমানের রাস্তায় মিছিলরত জনতা ‘আমেরিকার পতন’ কামনা করে স্লোগান দিচ্ছিল।

সরকারি সংস্থাগুলো সোমবার দেশজুড়ে শাসকগোষ্ঠীর সমর্থনে মিছিলের ডাক দেয়। অর্থনৈতিক সংকটসহ বিভিন্ন কারণে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়।

পূর্বাঞ্চলীয় শহর বিরজান্দে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির ফুটেজে জনতাকে ‘আমাদের জাতি জেগে উঠেছে এবং দাঙ্গাবাজদের ঘৃণা করে’ ও ‘আমরা বিপ্লবী সৈনিক, আমরা ফেতনাবাজদের ঘৃণা করি’—এমন স্লোগান দিতে শোনা যায়।

ফার্স বার্তা সংস্থার বরাতে জানানো হয়, মধ্য ইরানের শহর আরাকে মাইক্রোফোনে একজন বক্তা জনতাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘সবারই সমস্যা আছে, কিন্তু তারা বিদেশিদের হাতে নিজের ভাগ্যের সিদ্ধান্ত তুলে দেয় না। তারা আমেরিকা ও ইসরায়েলের হাতে দাবার চাল তুলে দেয় না।’

সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে
এদিকে ইরান সরকার বলছে, তারা বিদেশি মদদপুষ্ট বিক্ষোভ ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ এনেছে। এজন্য দ্রুতই ইন্টারনেট চালু হয়ে যাবে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, দেশজুড়ে বিক্ষোভে রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের পর এখন ‘পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে’।

তিনি বলেন, বিক্ষোভগুলো ‘সহিংস ও রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের জন্য একটি অজুহাত তৈরি করা যায়’।

ইরানকে জবাব দিতে ‘কঠোর উপায়’ বিবেচনা করছেন ট্রাম্প
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর অভিযানের জবাবে ওয়াশিংটন ‘শক্তিশালী উপায়গুলো’ বিবেচনা করছে, যার মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপও রয়েছে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) গভীর রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সামরিক বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে, আর আমরা কিছু অত্যন্ত শক্তিশালী বিকল্প বিবেচনা করছি।

আমরা একটি সিদ্ধান্ত নেব।
তিনি আরও বলেন, “সামরিক পদক্ষেপের হুমকির পর ইরানের নেতৃত্ব ‘আলোচনার জন্য’ যোগাযোগ করেছে এবং একটি ‘বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে’। কিন্তু বৈঠকের আগেই আমাদের পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।”

আর্কাইভ