প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ১০:৫৯ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে, এমন দেশগুলোর পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ টানা তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, এই শুল্ক তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। তবে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা বলতে ঠিক কোন ধরনের লেনদেনকে বোঝানো হচ্ছে-সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। এরপর রয়েছে ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও ভারত।
এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে। এ প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সোমবার জানান, বিমান হামলাসহ বিভিন্ন সামরিক বিকল্প এখনো ‘টেবিলে রয়েছে’।
ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে যে কোনো দেশ ব্যবসা করলে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সব ধরনের বাণিজ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তিনি আরও বলেন, এই আদেশ চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয়।
তবে হোয়াইট হাউস এখনো এ বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। বিশেষ করে কোন কোন দেশের আমদানি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সে সম্পর্কেও কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে, ইরানজুড়ে চলমান বিক্ষোভে ৫০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে দাবি করছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
সবশেষে যুক্তরাষ্ট্র নিজ দেশের নাগরিকদের ‘এই মুহূর্তে’ ইরান ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে। চলমান সংকটের কারণে রাস্তাবন্ধ, গণপরিবহণ বন্ধ এবং ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকায় দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এ ছাড়া অনেক বিমান সংস্থা অন্তত আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ইরানে ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করেছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থলপথে আর্মেনিয়া অথবা তুরস্কে যাওয়ার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।