প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
ভেনেজুয়েলার ভঙ্গুর জ্বালানি খাত পুনর্গঠন এবং তেল উৎপাদন রেকর্ড পর্যায়ে নিয়ে যেতে মার্কিন জ্বালানি জায়ান্ট কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) হোয়াইট হাউসে এক্সন, শেভরন ও কনোকোফিলিপসের মতো শীর্ষস্থানীয় তেল কোম্পানিগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই প্রস্তাব দেন।
গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্পের কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন এই জ্বালানি সম্পদ। ট্রাম্প জানান, মার্কিন কোম্পানিগুলোর সামনে এখন ভেনেজুয়েলার জরাজীর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো নতুন করে গড়ার সুযোগ এসেছে, যা দেশটিতে তেলের উৎপাদনকে নজিরবিহীন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও জানান, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্বের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে, যার আওতায় ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মার্কিন শোধনাগারগুলোতে সরবরাহ করা হবে। এটি আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে ট্রাম্পের এই ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বানে বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যে কিছুটা দ্বিধা ও সতর্কতা লক্ষ্য করা গেছে। এক্সন মবিলের সিইও ড্যারেন উডস বর্তমানে ভেনেজুয়েলাকে বিনিয়োগের অনুপযোগী হিসেবে অভিহিত করেছেন। অতীতে দেশটিতে সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়া এবং চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতাকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।
বর্তমানে ভেনেজুয়েলায় সচল থাকা একমাত্র মার্কিন বড় কোম্পানি শেভরন কিছুটা আগ্রহ দেখালেও কনোকোফিলিপসসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ঝুঁকির কারণে বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এখনো দ্বিধাগ্রস্ত।
তবে কিছু ছোট স্বতন্ত্র কোম্পানি এবং প্রাইভেট ইক্যুইটি সংস্থাগুলো ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে এবং তারা মার্কিন লাইসেন্সের অধীনে ভেনেজুয়েলার তেল বাজারজাত করতে ইচ্ছুক। বড় কোম্পানিগুলোর সংশয় কাটাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশ্বাস দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় তাদের বিনিয়োগের আর্থিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করবে।
জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার বড় তেল প্রকল্পগুলোতে অর্থায়নের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক।
সত্তরের দশকে ভেনেজুয়েলা দিনে ৩.৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করলেও কয়েক দশকের অব্যবস্থাপনায় বর্তমানে তা বৈশ্বিক সরবরাহের মাত্র এক শতাংশে নেমে এসেছে। তবে বিশ্বের বৃহত্তম তেলের মজুদ দেশটিতে থাকায় এটি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি একটি বিশাল সুযোগ হিসেবেও দেখা দিচ্ছে।