• ঢাকা রবিবার
    ২৭ নভেম্বর, ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

লক্ষ্মীপুরে বড় ভাইকে হত্যার দায়ে ছোট ভাইয়ের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২, ০৩:৩৩ পিএম

লক্ষ্মীপুরে বড় ভাইকে হত্যার দায়ে ছোট ভাইয়ের যাবজ্জীবন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের বড় ভাই আবদুল হান্নানকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ছোটভাই আবদুল মান্নানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এই রায় প্রদান করেন। রায়ের সময় আদালতে আসামি আবদুল মান্নান উপস্থিত ছিল।

জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁশুলী অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ১৯ ফ্রেব্রুয়ারি রাত পৌণে ১২টার দিকে নিজ বসতঘরে ছোটভাই আবদুল মান্নানের দায়ের কোপের আঘাতে খুন হয় বড় ভাই আবদুল হান্নান। বড়ভাই আবদুল হান্নানকে হত্যার ঘটনা আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তার ছোটভাই আবদুল মান্নানকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন বিচারক।

মামলার এজাহার এবং আদালত সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের চর পার্বতীনগর গ্রামের আনু মুন্সি বাড়ির বাসিন্দা আবুল কালামের দুই ছেলে আবদুল হান্নান ও আবদুল মান্নান। হান্নানকে বিয়ে করানোর পর থেকে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বড় ভাই হান্নান তার স্ত্রীকে নিয়ে মান্নানের প্রতি সন্দেহ পোষণ করে।

২০১৯ সালের ১৯ ফ্রেব্রুয়ারি রাত ১২টার দিকে হান্নান তার ছোটভাইকে বসতঘরের জানালার পাশে দেখতে পেয়ে তার স্ত্রী সঙ্গে ঝগড়া শুরু করে। এক পর্যায়ে তাকে মারধর করে। এ সময় জানালার পাশে থাকা ছোট ভাই মান্নান একটি দা নিয়ে হান্নানের ঘরে ঢোকে। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মান্নান তার বড়ভাই হান্নানের ঘাড়ে দা দিয়ে কোপ দেয়। দায়ের কোপে হান্নানের ঘাড়ের বেশিরভাগ অংশ আলাদা হয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। 

পরেরদিন সকালে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাদের পিতা আবুল কালাম বাদী হয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি ছোট ছেলে মান্নানকে আসামি করে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরদিন পুলিশ মান্নানকে গ্রেফতার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।

২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সেই সময়ের সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রানা দাস আসামি মান্নানকে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানী শেষে প্রায় সাড়ে চার বছর পর এই মামলার রায় দেয়া হয়।

এএল/
 

আর্কাইভ