• ঢাকা রবিবার
    ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

একইদিনে গণভোটের সিদ্ধান্ত কারো কুপরামর্শে হয়েছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ০৭:৫৭ পিএম

একইদিনে গণভোটের সিদ্ধান্ত কারো কুপরামর্শে হয়েছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

রাজশাহী ব্যুরো

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট দিতে হবে। এখনো সুযোগ আছে, গেজেট পরিবর্তন করুন। জনগণ আগেই গণভোট চায়। এখনো সুযোগ আছে, তারিখ পরিবর্তন করুন। আমরা সরকারকে সংকটে ফেলতে চাই না। আসলে সরকার একইদিনে গণভোটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারো কুপরামর্শে করেছে।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও এ আদেশের উপর গণভোট আয়োজনসহ ৫-দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ইসলামপন্থি আট দলের বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আজ রোববার দুপুরে এ সমাবেশ হয়। এতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা ৮ দল জাগরণের বার্তা নিয়ে এসেছি। পরিবর্তনের বার্তা গ্রামে-গঞ্জে পৌঁছে দিতে হবে। আমাদের এই ৮ দল আর ৮ দল থাকছে না, আমাদের সঙ্গে আরও অনেক দল আসার আবেদন করছে। সবার প্রত্যাশা একটা নতুন বাংলাদেশ চায়। মানুষের মনে আশা সঞ্চার হয়েছে যে, নতুন বাংলাদেশ ইসলামের বাংলাদেশ হবে।

এবারের সংগ্রাম চাঁদাবাজ, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি আরও বলেন, একটি দল এখনো ষড়যন্ত্র করছে। গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট হবে। হ্যাঁ ভোট মানে হলো ফ্যাসিবাদবিরোধী নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, সুশাসনের পক্ষে। জনগণের ম্যান্ডেট নষ্ট করা যাবে না। কোনো ষড়যন্ত্র বাংলার মানুষ মেনে নেবে না। এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আগামীর সংসদ হবে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত সংসদ। চাঁদাবাজদের প্রতিহত করব ইনশাআল্লাহ। অতীতে যারা চাঁদাবাজি করেছে, তাদের আর খাওয়া নেই। আগামীর সংসদ হবে কুরআনের সংসদ। আগামীতে সচিবালয়, সংসদ, বিচারালয় চলবে কুরআন দিয়ে। সবকিছু চলবে কুরআন দিয়ে।’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন্দ বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ চায়। মানুষ জেগে উঠেছে। চাঁদাবাজদের দেখতে চায় না। ইসলামী দলকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় দেখতে চায় সবাই। এবার কার্যকর পার্লামেন্টে পরিণত করব। ঐক্য টিকিয়ে রাখতে হবে। এতে কেউ যাতে ফাটল ধরাতে না পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘এখনো মিছিলে আন্দোলনে গুলি করে আহত করে, এটা আমরা বরদাশত করব না। জনগণের কাছে আমাদের যেতে হবে। কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।’

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, একটি দল বারবার সংস্কারকে বাধাগ্রস্ত করছে। তারা যেনতেনভাবে ক্ষমতায় এসে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়।

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, ‘আল্লাহ ছাড় দেয়, ছেড়ে দেয় না, রাকসু নির্বাচন তার প্রমাণ। তিনবার গণভোট হয়েছে, কোনটাই জাতীয় নির্বাচনের দিন হয়নি। নির্বাচনের দিন গণভোটের নজির ইতিহাসে নেই। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, একইদিনে গণভোট ও নির্বাচন চ্যালেঞ্জের বিষয়। যারা আয়োজন করবেন তারা বুঝে গেছেন, কিন্তু বিএনপি বুঝেনি। জনগণ বুঝে গেছে কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার বুঝে নাই।’

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে চিনেছে, গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু তারা গণহত্যার বৈধতা দেওয়া জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করেনি। অবিলম্বে ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করুন। চান্দা পার্টি পোস্টার ছিঁড়ছে। তারা ৮ দলের নেতাদের পোস্টার ছিঁড়তে পারে, কিন্তু মানুষের মন থেকে মুছতে পারবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় বুলেট ছুঁড়ে মারা হচ্ছে। জনগণ বুলেটের জবাব ব্যালটে দেবে।’

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতহারি বলেন, ‘রক্ত দিয়েছি, রক্ত আরও দেব তবু আগে গণভোট ও জুলাই সনদ কার্যকর করব। তাছাড়া দেশে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। নির্বাচনের আগেই গণভোট দিতে হবে, জুলাই সনদ কার্যকর করে তারপর নির্বাচন দিতে হবে। লড়াই করেছি একদিনের জন্য নয়, ৪৭ সাল থেকে। আবারও লড়াই করে আল্লাহর আইন কুরআনের শাসন অবশ্যই অবশ্যই কায়েম করব ইনশাআল্লাহ।’

সমাবেশে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান বলেন, ‘গণভোটে একটি দল না-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জনগণ হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দিয়ে তাদেরকে না করে দেবে। সিদ্ধান্ত নিন জুলাই সনদের পক্ষ নিয়ে হ্যাঁ-কে জয়যুক্ত করুন। ইসলামের বাক্সে সকল ভোট পড়বে ইনশাআল্লাহ।’

সমাবেশের সভাপতি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব কোনো একক দলের নেতৃত্বে হয়নি। কিন্তু এই সরকার একটি দলের পকেটে ঢুকে যাচ্ছে। আমরা বলব, নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করুন। গণভোট আগে হতে হবে। ষড়যন্ত্র চলছে। যথাসময়ে নির্বাচন হতে হবে। গণভোট আগে দিতে হবে। গণহত্যার বিচার করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে। এই দেশ কারও বাবার দেশ নয়, কোনো পরিবারের দেশ নয়। এই দেশ ১৮ কোটি জনগণের দেশ। আমরা ৮ দল অনেক বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছেছি। নির্বাচনে ৮ দলের একজন প্রার্থী থাকবে। তাকেই আমরা ভোট দেব।’

সভায় রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি ও সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ইমাজ উদ্দিন মন্ডল ও মুফতি ইমরানের যৌথ সঞ্চালনা করেন। এসময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি শেখ মো. নুরুন্নবী, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি শেখ মো. সালাউদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম-মহাসচিব অধ্যক্ষ রোকনুজ্জামান রোকন, জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর আমির ড. মাওলানা কেরামত আলী, নায়েবে আমির ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, রাকসুর ভিপি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

তাদের পাঁচ দফা দাবি হলো- জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে আদেশ জারি এবং এই আদেশের উপর গণভোট আয়োজন করা, আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালু করা, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের সব জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা, ‘স্বৈরাচারের দোসর’ জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।

সভায় অংশ নেওয়া ৮ দল হলো- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, খেলাফত মজলিশ, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।

দেশজুড়ে সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ