প্রকাশিত: জানুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি জেলা সাতক্ষীরা, যেখানে এ বছর ব্যাপকভাবে বোরো ধানের আবাদ শুরু হয়েছে। কৃষকরা পুরোদমে শুরু করেছেন বোরো ধানের চাষ, যা তাদের জীবিকার প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করছে।
এ বছর জেলার প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। জেলার কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই আবাদ থেকে ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলার কৃষকরা গত কয়েক বছর ধরে বোরো ধান চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তারা এখন চাষাবাদে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন, যার মধ্যে উন্নতমানের বীজ, সেচ ব্যবস্থা এবং নিরাপদ কীটনাশক ব্যবহারের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে চাষিরা ভালো ফলন পাচ্ছেন এবং তাদের আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কৃষকরা আবুল কালাম, সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা, বিশেষ করে সাবসিডি দেওয়া সার ও কীটনাশক এবং সেচের জন্য পানি সরবরাহে সহযোগিতার কারণে বোরো ধান চাষের পরিমাণ বাড়ছে। তবে তাদের জন্য এখনো কিছু সমস্যা রয়ে গেছে, যেমন পানি সেচের জন্য খাল-বিলের সংস্কার ও বাজারে দাম কম হওয়া।
এদিকে, জেলার কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বোরো ধানের আবাদ বাড়ানোয় সাতক্ষীরা জেলার কৃষির উন্নতি ঘটছে। তারা আশা করছেন, এবারের বোরো ধান থেকে ভালো ফলন হবে এবং কৃষকরা লাভবান হবেন। তারা আরও বলেন, জেলার কৃষকদের সহায়তা অব্যাহত থাকবে এবং তারা সবসময় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য প্ররোচিত করবেন।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি উন্নয়ন কর্মকর্তা বলেন, "আমরা কৃষকদের মাঝে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, যাতে তারা আধুনিক কৃষি পদ্ধতি অনুসরণ করে। এছাড়া, ফসলের সঠিক পরিচর্যার জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।"
এছাড়া, জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি বলেন, "আমরা আশা করি, যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে এবং বাজারে ধানের দাম ঠিক থাকে, তবে কৃষকরা ভালো লাভ করতে পারবেন।"
এ বছরের বোরো ধান চাষের সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল, এবং এটি সাতক্ষীরার কৃষকদের জন্য একটি বড় সুযোগ হতে পারে।
উল্লেখ্য সাতক্ষীরার প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ বসবাস করেন, এবং এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। জেলা তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭০%-৮০% মানুষ কৃষির সঙ্গে যুক্ত, অর্থাৎ প্রায় ২৫ লাখ মানুষ কৃষির সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। এদের মধ্যে অনেকেই মূলত ধান, চিংড়ি, তিল, গম, সরিষা, শাকসবজি এবং ফলমূল চাষ করে থাকে।