প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম
ইরানে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিচ্ছে দখলদার ইসরাইল। এ জন্য ইসরাইলি সেনাপ্রধান যুক্তরাষ্ট্রের সেনাপ্রধানের সঙ্গে ওয়াশিংটন ডিসিতে গিয়ে বৈঠকও করেছেন।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এক্সিওস। তবে ট্রাম্প এ মুহূর্তে ইরানে হামলা চালাতে চান না বলে জানা গেছে। এর বদলে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চান।
এক্সিওস জানিয়েছে, গত মাসের শুরুতে যখন ইরানে তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছিল তখন দেশটিতে সামরিক হামলার চিন্তা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কিন্তু এ মুহূর্তে তার হামলার তেমন ইচ্ছা নেই।
সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, গত মাসে ট্রাম্প ইরানে প্রতীকি বা ছোট হামলা চালাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তখন ইসরাইল ছোট হামলার বিরোধীতা করেছিল। কারণ ওই সময় তাদের বিশ্বাস ছিল শক্তিশালী হামলা না চালালে ইরান সরকার নড়েবড়ে হবে না।
কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যে ইরানের নিরাপত্তাবাহিনী বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসলে এবং সাধারণ মানুষ নতুন করে বিক্ষোভ শুরু করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলার পর ট্রাম্প হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন।
এরপরই ইসরাইল চাপ দেওয়া শুরু করে। এর ফলশ্রুতিতে দখলদারদের সেনাপ্রধান ইয়াল জামির সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসিতে যান। সেখানে মার্কিন সেনাপ্রধান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
ইসরাইলি সেনা প্রধান তাদের হামলা ও প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা সম্পর্কে মার্কিন সেনাপ্রধানকে অবহিত করেন। এরপর ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিন সেনা কর্মকর্তা বৈঠক করেন। কিন্তু ট্রাম্প হামলায় সায় দেননি।
এদিকে দীর্ঘ সময়ের হুমকি-পাল্টা হুমকির পর অবশেষে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামী শুক্রবার তুরস্কে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগবি ও মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হবে। তবে আলোচনা শুরুর আগেই হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) তিনি বলেছেন, ইরান যদি চুক্তি না করে তাহলে ভয়াবহ কিছু ঘটবে।
ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইরানের দিকে আমাদের জাহাজ যাচ্ছে। বড় বহর এবং সেরা— ইরানের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। দেখা যাক কি হয়। যদি আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমাধান হয়, অসাধারণ হবে। কিন্তু যদি এরমাধ্যমে না হয় তাহলে (ইরানের সঙ্গে) খারাপ কিছু ঘটবে।’