প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে করা আপত্তিকর মন্তব্যের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাবির মধুর ক্যান্টিন থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, জামায়াতে ইসলাম ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই নারীদের বিষয়ে একই ধরনের সংকীর্ণ মানসিকতা প্রকাশ করে আসছে।
সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্যাম্পাসে তাদের বক্তব্য ও তৎপরতা সেই ধারাবাহিকতারই প্রমাণ।
তিনি বলেন, জামায়াত আমিরের দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে নারীদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে কর্মজীবী নারীদের তিনি অবমাননাকর ভাষায় উল্লেখ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে দেশে ও বিদেশে সমালোচনা শুরু হলে তিনি দাবি করেন, তার আইডি হ্যাক হয়েছিল।
রাকিব আরও বলেন, যদি সত্যিই আইডি হ্যাক হয়ে থাকে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করা যেত। তার সে সুযোগ ও সক্ষমতা ছিল। কিন্তু ব্যাপক প্রতিবাদের পর বিষয়টি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা প্রশ্নের জন্ম দেয়।
সমাবেশে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, এর আগে গত বৃহস্পতিবার জামায়াতে ইসলামীর আমির আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন, তাদের দল থেকে নারীরা কখনো রাষ্ট্রপ্রধান হতে পারবেন না।
ওই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি এক্সে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, পরে আইডি হ্যাকের দাবি করা হলেও বাংলাদেশের মানুষ এখন ইন্টারনেট ব্যবহার ও তথ্য যাচাইয়ে সচেতন। একটি ভেরিফায়েড আইডি হ্যাক হলে খুব দ্রুত তা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব—এ ধরনের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।
এ সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলসহ ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মিছিলে অংশ নেওয়া ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘নিপীড়কের বিরুদ্ধে—ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ এবং ‘রাজাকারের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’সহ নানা স্লোগান দেন।