• ঢাকা রবিবার
    ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা

হরমুজের বিকল্প রুট থাকলেও পূর্ণাঙ্গ সমাধান নয়, বাড়ছে জ্বালানি বাজারের শঙ্কা

প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম

হরমুজের বিকল্প রুট থাকলেও পূর্ণাঙ্গ সমাধান নয়, বাড়ছে জ্বালানি বাজারের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি আবারও বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে এবং বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়, যা বৈশ্বিক সমুদ্রপথে তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। পাশাপাশি বিশ্বের এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ অতিক্রম করে, যার বড় অংশের গন্তব্য এশিয়ার দেশগুলো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরান হরমুজ এড়িয়ে বিকল্প পাইপলাইন ও রপ্তানি অবকাঠামো গড়ে তুললেও সেগুলোর সক্ষমতা এখনো সীমিত। বর্তমানে এসব বিকল্প পথে দৈনিক সর্বোচ্চ ৩৫ থেকে ৫৫ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন সম্ভব, যা হরমুজ দিয়ে প্রতিদিন পরিবাহিত প্রায় দুই কোটি ব্যারেলের তুলনায় অনেক কম।

এদিকে ইরাক, তুরস্ক ও সিরিয়া হয়ে নতুন পাইপলাইন নির্মাণ বা পুরোনো রুট পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ঝুঁকি, অর্থায়নের সংকট এবং আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো ধীরে ধীরে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা চালালেও অদূর ভবিষ্যতে এই জলপথের কার্যকর বিকল্প তৈরি করা সম্ভব নয়। ফলে হরমুজে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা বা নৌচলাচলে বিঘ্ন বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম এবং আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতেই থাকবে।

আর্কাইভ