প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ১০:০১ এএম
গাজার বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে এর সমাধান ও ত্রাণ সরবরাহে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি প্রশ্ন তোলেন, গাজা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় চুপ থাকলে নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।
তিনি উল্লেখ করেন, অনেকেই শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বললেও বাস্তবে এখনো প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে শুরু করেনি, যা অত্যন্ত লজ্জার বিষয়।
অধিবেশনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে ভাষণ দেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ। ম্যাখোঁ তার ভাষণে বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের বিষয়টিতে জোর দিয়ে বলেন, ‘এই সমুদ্রপথকে কোনো ধরনের ব্ল্যাকমেইলের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়।’ আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলাচল নিশ্চিত করতে প্রণালীটি দ্রুত পুনরায় চালু করাকে একটি অগ্রাধিকার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
একই ইস্যুতে কথা বলেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। তিনি বলেন, ‘ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তেজনায় উপসাগরীয় অঞ্চল এখন ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক সময় পার করছে। তবে একটি বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কাতার কূটনৈতিক উপায়ে এর স্থায়ী সমাধান চায়।’ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার মাধ্যমে যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ তার বক্তব্যে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং পশ্চিম তীরে তাদের সাম্প্রতিক আগ্রাসী নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ইসরায়েলি সরকার ইচ্ছা করেই গাজায় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছে এবং সংঘাত নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।’ তিনি আরো বলেন, বেসামরিক অবকাঠামোতে ক্রমাগত হামলা চালিয়ে ও সেনা প্রত্যাহার না করে ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের গাজার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ডে সংকুচিত করে ফেলছে। একইসঙ্গে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়িয়ে পুরো অঞ্চলকে কার্যত দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সমাবেশে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা আনার একমাত্র নির্ভরযোগ্য উপায় হলো ‘দ্বি-রাষ্ট্র’ সমাধান।
অর্থাৎ ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল দুটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে পাশাপাশি শান্তিতে বসবাস করবে। এই স্পষ্ট উদ্দেশ্যের কোনো বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি।