• ঢাকা বুধবার
    ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ১৮ মাঘ ১৪২৯
কেনো ১০ ডিসেম্বর তাদের লক্ষ্য

লাশের পলিটিক্স ও বিএনপির গেম সরকারের কাছে এখন পরিস্কার

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৮, ২০২২, ০৮:৫৫ পিএম

লাশের পলিটিক্স ও বিএনপির গেম সরকারের কাছে এখন পরিস্কার

আব্দুল বারী, ঢাকা

সিটি নিউজ ঢাকা আগেই বলেছে বিএনপি সিলেবাস নিয়ে এগোচ্ছে। তারা যেসব কর্মসূচি নিয়েছে তার সবই সেই সিলেবাসের অংশ। তারা বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করেছেন। এরপর ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশের ডাক দিয়েছেন।

কেন তারা ১০ ডিসেম্বরকে সমাবেশের দিন হিসেবে নির্ধারণ করলেন? এ কথা আগে তো কেউ ভাবেনি। এখন দেখা যাচ্ছে ১০ ডিসেম্বর কোনো স্বাভাবিক দিন নয়। এই দিনটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস। এই দিবসে মানবাধিকারের ব্যত্যয় ঘটলে তা হবে জাতিসংঘের এজেন্ডা। এ কারণেই তারা ১০ ডিসেম্বরকে পছন্দ করেছেন। এ কথা এখন আরও পরিষ্কার হয়েছে।

বিএনপি ঢাকায় সমাবেশ করে সরকারের পতনের ডাক দিবে আর সরকার সাবেক যুবলীগ নেতার মতো ঘরে বসে ‘আঙুল চুষবে’ তা হতেই পারে না। তারা এই দিবসটিতে বিএনপির সমাবেশের উপর বল প্রয়োগ করলে সুযোগ নিবে বিএনপি। এই লক্ষ্যকে টার্গেট  করেই ১০ ডিসেম্বরকে সমাবেশের দিন হিসেবে বেছে নিয়েছে বিএনপি। এটা এখন বলাই বাহুল্য। 

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অবাধ মত প্রকাশ, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আয়োজন করতে দেয়ার কথা সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে স্মরণ রাখতে হবে। বাংলাদেশ এটা স্মরণ না রাখলে জাতিসংঘ কি করতে পারে তা না বলাই উত্তম।

এর ইঙ্গিতও অলরেডি এসে গেছে। বুধবার (৭ ডিসেম্বর) নয়া পল্টনে পুলিশ ও বিএনপির ‘সংঘর্ষ’র পরপরই বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইস একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। আসন্ন মানবাধিকার দিবসকে উপলক্ষ করে তিনি বাংলাদেশকে সংস্থাটির ঘোষণাপত্রের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অবাধ মত প্রকাশ, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আয়োজন করতে দেয়ার কথা সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে স্মরণ রাখতে হবে। বাংলাদেশ এটা স্মরণ না রাখলে জাতিসংঘ কি করতে পারে তা না বলাই উত্তম।

২ ডিসেম্বর বিদেশি সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন ‘১২ বছর আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তাকে হটানো যায়নি। আসাদ মারা যাওয়ার পর তার পতন হয়েছে। ৯ বছর এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তাকে হটানো যায়নি। ডা. মিলন মারা যাওযার পর এরশাদের পতন হয়েছে।’ এর মানে কি এই যে, ‘লাশ পড়লেই সরকারের পতন হবে’।

১০ ডিসেম্বরের আগেই বিএনপি পেয়ে গেল একটি লাশ। এই লাশকে ক্যাশ করতে পারলেই নেপথ্যের কোচরা বলবে ‘সাব্বাস’। নয়া পল্টনে গোলমালের সময় পুলিশ কর্ডনের মধ্যে দাঁড়িয়ে মির্জা ফখরুল হয়তো সেই সাব্বাসটি মোবাইল ফোনে নিয়ে ফেলেছেন।

সেই ইস্যু এখন তাদের সামনে এসে গেছে। তারা সমাবেশের স্থান প্রশ্নে অনড় থেকে সরকারকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে। এই ফাঁদে ধরা পড়লেই তারা বলবে হুর-রে--। আর সরকার যদি তাদের অপ-কৌশল রুখে দিতে পারে তবে ১০ ডিসেম্বরের সেকেন্ড গেমে বিএনপির পরাজয় অনিবার্য।

১০ ডিসেম্বরের আগেই বিএনপি পেয়ে গেল একটি লাশ। এই লাশকে ক্যাশ করতে পারলেই নেপথ্যের কোচরা বলবে ‘সাব্বাস’। নয়া পল্টনে গোলমালের সময় পুলিশ কর্ডনের মধ্যে দাঁড়িয়ে মির্জা ফখরুল হয়তো সেই সাব্বাসটি মোবাইল ফোনে নিয়ে ফেলেছেন।

বিএনপির আগের আন্দোলনের চরিত্র ছিল পাবলিক ও পাবলিক প্রোপাটির ক্ষতি সাধন করে আন্দোলনের ভয়াবহতা জাহির করা। এবারে তারা সেই চরিত্র পাল্টিয়ে পাবলিক সাপোর্ট রিকভারে খুবই সচেষ্ট বলে মনে হচ্ছে। কারণ ২২ আগস্ট থেকে চলমান কর্মসূচিতে তারা কোথাও পাবলিক প্রোপাটির উপর কোনো হামলা করেনি।

বিএনপি যে একাই সিলেবাস কমপ্লিট করছে তা কিন্তু নয়। আওয়ামী লীগও যথেষ্ট সতর্ক শিকারীর মতো পা টিপে হাঁটছে। তারপরও ক্ষমতার হাতুড়িয়ালারা যেমন স্ক্রুড্রাইভারের চেয়ে হাতুড়ি ব্যবহারে আগ্রহী, গতকালের নয়া পল্টন যুদ্ধ তেমনটিই ইঙ্গিত দিয়েছে।

পুলিশ কমিশনার সিটি নিউজ ঢাকাকে দেয়া এক বক্তব্যে কৌঁশলী ভাষা ব্যবহার করে বলেছেন ‘রাজনীতি করার অধিকার সবার। আইন অমান্য করলে ছাড় দেয়া হবে না’।

পুলিশও কম যায়নি। তারা বুদ্ধি খাটিয়ে সকল হাতুড়ি-বাটাল বের করে শক্তি দেখিয়ে দিয়েছে। পুলিশের কথা না শুনে রাস্তায় শুয়ে পল্টন দখল করতে গেলে তারা কি করতে পারে, দিনব্যাপী যুদ্ধে তা স্পষ্ট করেছেন। এখানেই শেষ নয়, পুলিশ কমিশনার সিটি নিউজ ঢাকাকে দেয়া এক বক্তব্যে কৌঁশলী ভাষা ব্যবহার করে বলেছেন ‘রাজনীতি করার অধিকার সবার। আইন অমান্য করলে ছাড় দেয়া হবে না’।

সে যাই হোক না কেন, পরিস্থিতি যে কারো জন্যই স্বস্তিকর নয় তা কিন্তু স্পষ্ট। বিএনপিকে নয়া পল্টনে সভা করতে দিলে, বিএনপি এটাকে আওয়ামী লীগের মহানুভবতা নাও ভাবতে পারে। তারা যদি ভেবে নেয় যে, এটা আওয়ামী লীগের নতি স্বীকার। তাহলে বিএনপির আন্দোলনের পালে হাওয়া জোরদার হবে। সে হাওয়া রুখে দেয়া অলিক।

অন্য দিকে দমন নীতির কাছে হার মেনে নয়া পল্টনে সমাবেশ করতে ব্যর্থ হলে বিএনপি কেবলমাত্র ফেল নয়, এক্সফেলড হবে। আর যদি এটা হয় তাহলে তাদের অস্তিত্বের ভরাডুবি অনিবার্য তো বটেই।

যদি সামন্ত কায়দায় দমন পীড়ন চালানো হয় তবে তা হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর সম্প্রীতির মেশিনে আগুন লাগলে অবস্থা যে কত ভয়ঙ্কর হবে তা অনুমান করাও দুরূহ।

এসব কিছুই হবে না, যদি কি না তারা সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে পারেন। এমনটি করা গেলে শূন্য গোলে ড্র টানতে পারবে। আর এর বেনিফিট পাবে সমতার স্বীকৃতি।

এসব না করে যদি সামন্ত কায়দায় দমন পীড়ন চালানো হয় তবে তা হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর সম্প্রীতির মেশিনে আগুন লাগলে অবস্থা যে কত ভয়ঙ্কর হবে তা অনুমান করাও দুরূহ।

দুই পক্ষ কোথায় গিয়ে নিজেদের বেনিফিট নিবেন তা কেবলই তারা এবং সময়ই বলতে পারে।

 

এবি/এএল/এআরআই

আর্কাইভ