• ঢাকা রবিবার
    ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২

বিদ্যুৎ খাতে হরিলুট, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যেসব দুর্নীতি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ১১:০০ এএম

বিদ্যুৎ খাতে হরিলুট, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যেসব দুর্নীতি

সিটি নিউজ ডেস্ক

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুর্নীতি অনিয়মের ভয়াবহ সব চিত্র সামনে আসছে। চারদিকেই হরিলুট হয়েছে। দুর্নীতি লুটপাটের শীর্ষে ছিল বিদ্যুৎ খাত। খুলনার খালিশপুরে ডিজেলভিত্তিক ২৩০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র দুই বছর ধরে ‘এক ছটাক’ বিদ্যুৎও উৎপাদন করেনি। অথচ প্রতিমাসে সাড়ে ১৬ কোটি টাকার বেশি ক্যাপাসিটি চার্জ দিচ্ছে। একইভাবে ঘোড়াশালের রিজেন্ট ১০৮ মেগাওয়াটের কেন্দ্র এক বছরে উৎপাদন সক্ষমতার ৩ শতাংশ বিদ্যুৎও গ্রিডে দেয়নি। এরপরও প্রতিমাসে নিচ্ছে সাড়ে ৯ কোটি টাকার বেশি। আরও অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র একইভাবে বসে বসে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্যারামাউন্ড নামে একটি কোম্পানি প্রতি ইউনিট ৮৫ টাকা করে বিক্রি করে ৫ বছরে নিয়ে গেছে ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি। বিদ্যুৎ খাতের এমন অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে লাভবান হচ্ছে হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানি। কিন্তু ধসে পড়ছে দেশের অর্থনীতি। যুগান্তরের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবি এবং বিদ্যুৎবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে অতিরিক্ত ১০০ কোটি ডলার বা ১২ হাজার কোটি টাকা বেশি আদায় করা হচ্ছে পিডিবি থেকে। সরকারি তথ্য-উপাত্ত থেকে জানা গেছে, গত ১৫ বছরে পিডিবি বিদ্যুৎ কিনতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে (সরকারি-বেসরকারি এবং ভারত থেকে আমদানি) ৬ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি বিল দিয়েছে। এর মধ্যে ক্যাপাসিটি চার্জেই গেছে ২ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা।

জানা যায়, অপ্রয়োজনীয় জায়গায় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন এবং অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। মূলত বড় ধরনের লুটপাট করতেই কথায় কথায় বেসরকারি (আইপিপি) তেল ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। বিগত সরকারের অর্থনৈতিক অবস্থার শ্বেতপত্র কমিটির অন্যতম সদস্য এবং ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম যুগান্তরকে বলেন, বিদ্যুৎ খাতে এতদিন দিনদুপুরে ডাকাতি করা হয়েছে। যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র সক্ষমতার ৪০ শতাংশের কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সেগুলোর কোনো দরকারই নেই। এমন অনেক কেন্দ্র বসিয়ে বসিয়ে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে টাকা দেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবীর খান বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, বিদ্যুৎ খাতের প্রচুর অনিয়মের তথ্যপ্রমাণ আছে। সরকার প্রাথমিকভাবে একটি কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ ছাড়া আইপিপিগুলোকে বিদ্যুৎ বিক্রির দাম কমাতে চিঠি দেওয়া হচ্ছে।

বিগত সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাত নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক, বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে বিদ্যুৎসংক্রান্ত পর্যালোচনা কমিটি কাজ করছে। দুদক ও পর্যালোচনা কমিটির প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মূলত ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর নেতৃত্বে সাবেক কয়েকজন সচিব এবং পিডিবির সাবেক কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা বিদ্যুৎ খাতের অনিয়মে জড়িত। কারণ বেশির ভাগ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংক্রান্ত বিশেষ আইনে।

না চললেও টাকা দিতে হয় : দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে ১৩৫টি। যার সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯০৯ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সরকারি ৬৩টি, যৌথ উদ্যোগে ৩টি এবং বেসরকারি বা আইপিপি হচ্ছে ৬৯টি। পিডিবি জানিয়েছে, ফার্নেস অয়েল (এইচএফও)ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে ৫৪টি। যার মধ্যে বেশ কয়েকটি একেবারেই চলে না। কিন্তু পিডিবিকে চার্জ দিতে হয়। সরকারি কর্মকর্তারা জানান, গত ২ বছরে অনেক কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র উৎপাদনে এসেছে। তাই এখন আর ফার্নেস অয়েলের কেন্দ্র দরকার হয় না। কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ নিলে প্রতি ইউনিটে খরচ হয় ১৩ থেকে ১৪ টাকা। আর ফার্নেস অয়েলের কেন্দ্রে খরচ পড়ে ২২ টাকার বেশি। এ ধরনের একটি হচ্ছে নর্থওয়েস্ট পাওয়ারের দ্বৈত জ্বালানির (গ্যাস ও ডিজেল) খুলনার খালিশপুর ২৩০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র। গত দুই বছরে সরকারি এ বিদ্যুৎকেন্দ্র একবারও চলেনি। কিন্তু বিল দিতে হচ্ছে বছরে ২০০ কোটি টাকার বেশি। পিডিবির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি (পিপিএ) অনুযায়ী, বিনিয়োগের খরচ ধরে ক্যাপাসিটি চার্জ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে জ্বালানি খরচ ও পাওয়ার প্ল্যান্টে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ পাবে ওই কোম্পানি।

নর্থওয়েস্ট পাওয়ার কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেছেন, এ কেন্দ্রটি ২০১৩ সালে বসানো হয়েছে ২২ বছরের জন্য। দ্বৈত জ্বালানি হলেও গ্যাস দিয়ে কখনো চালানো হয়নি। কারণ গ্যাস নেই। ডিজেল দিয়ে কয়েক বছর চলেছে। কিন্তু রামপাল ও পায়রা কেন্দ্র আসার পর এটি আর চলে না। এ কেন্দ্রকে এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ৫৮০ কোটি টাকার বেশি বিল দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের আরও একটি হচ্ছে মধুমতি বাগেরহাট ১০৫ মেগাওয়াটের কেন্দ্র। এক বছর ধরে কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ১ শতাংশ। অথচ প্রতিমাসে এর ক্যাপাসিটি চার্জ ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত এ কেন্দ্রকে বিল দেওয়া হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকা। আইপিপি হিসাবে এ ধরনের আরও একটি হচ্ছে রিজেন্ট ঘোড়াশাল কেন্দ্র। প্রতিমাসে ৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ পেলেও দেশের প্রয়োজনে তার বিদ্যুতের দরকার হয় না। কারণ ওই এলাকায় গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র আছে। সামিটের বরিশাল ১০০ মেগাওয়াট এইচএফও কেন্দ্র ক্ষমতার মাত্র ৯ শতাংশ উৎপাদন করেছে গত বছর। মাসে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয় ১৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এ কেন্দ্র বিল নিয়েছে ৩ হাজার ৬৪৭ কোটি টাকা। ফানের্স অয়েলের ডিজিটাল ১০০ মেগাওয়াট প্রতিমাসে ১০ কোটি টাকার বেশি ক্যাপাসিটি চার্জ নিচ্ছে। কিন্তু তেমন চলে না। ওরিয়নের মেঘনাঘাট ১০০ মেগাওয়াটের কেন্দ্র এক বছরে উৎপাদন করে ক্ষমতার মাত্র ৭ শতাংশ। অথচ প্রতিমাসে সরকারকে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে ১২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ওরিয়নের ১০৫ মেগাওয়াটের আরও একটি কেন্দ্র সক্ষমতার মাত্র ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ দিয়েছে পিডিবিকে। মাসে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে ১৫ কোটি টাকা। ইউনাইটেডের পায়রা ১৫০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটি উৎপাদন করে গত বছর মাত্র ১১ শতাংশ। ইদানীং চাহিদা না থাকায় তেমন একটা চলে না। এটির প্রতিমাসে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে ১৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, পায়রায় এমনিতে ১২৬০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। সেখানে ফার্নেস অয়েলের এ কেন্দ্র এখন আর দরকার নেই। পিডিবি জানিয়েছে, সাবেক হুইপ আসম ফিরোজকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী এ কেন্দ্র বসানোর কাগজ উপহার দিয়েছিলেন। সেটি এখন চালাচ্ছে ইউনাইটেড। এ কোম্পানির আরও একটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র (ফার্নেস অয়েলের) আনোয়ারা ৩০০ মোগওয়াট। এটি তার ক্ষমতার মাত্র ৮ শতাংশ উৎপাদন করেছে। প্রতি মাসে এটিকে দিতে হয় ৪৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ইউনাইটেডের কেন্দ্র এ পর্যন্ত (জুন, ২০২৫) বিল নিয়েছে ৯ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। এছাড়া ইপিবি ১০৮ মেগাওয়াট কেন্দ্র তার সক্ষমতার মাত্র ৭ শতাংশ বিদ্যুৎ দিয়েছে গত বছর। মাসে ক্যাপাসিটি চার্জ নিচ্ছে ১৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এর চেয়ে আরও কম চলেছে শ্রীলংকান কোম্পানি রাজলংকা ৫২ মেগাওয়াটের কেন্দ্র। উৎপাদন করে সক্ষমতার মাত্র ৪ শতাংশ। অথচ মাসে ক্যাপাসিটি চার্জ ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

বিদ্যুৎ দেওয়ার নামে ডাকাতি, ইউনিট ৮৫ টাকা : ফাস্ট ট্রেকের নামে পাঁচটি কোম্পানিকে ৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বসাতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। ২০১৮ সালে কোনোরকম টেন্ডার ছাড়াই অত্যন্ত ব্যয়বহুল এসব কেন্দ্র বিশেষ আইনে বসানো হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি কেন্দ্র নিয়ে তদন্ত করছে সংশ্লিষ্টরা। এর একটি হচ্ছে প্যারামাউন্ড-বাংলাট্রেক ২০০ মেগাওয়াট কেন্দ্র। প্যারামাউন্ড টেক্সটাইল এটির অনুমোদন নেয় ৫ বছরের জন্য। কোনো অভিজ্ঞতা না থাকায় বাংলাট্রেক কোম্পানিকে ৫০ শতাংশ শেয়ার দেওয়া হয়। মূলত এটি ছিল টাকার মেশিন। ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সব ডিজেলভিত্তিক কেন্দ্র চলেছে। এটিরও ব্যত্যয় হয়নি। পাঁচ বছরে এটি উৎপাদন করেছে মাত্র ৩১ কোটি ৩৯ লাখ ৪০ হাজার ৪০৬ ইউনিট বিদ্যুৎ। ৫ বছরে বিল নিয়েছে ২ হাজার ৬৭৬ কোটি ২৩ লাখ ১৯ হাজার ৯২১ টাকা। এর মধ্যে শুধু ক্যাপাসিটি চার্জ হচ্ছে ১ হাজার ৯৩৯ কোটি ২ লাখ ৭১ হাজার ৭৯৩ কোটি কোটি। এ হিসাবে প্যারামাউন্ডের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়েছে ৮৫ টাকা ২৪ পয়সা।

জানা গেছে, সাবেক সরকারের শীর্ষ এক নীতিনির্ধারককে একটি প্লট দিয়ে এ কেন্দ্রের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল। এরপর আছে কেরানীগঞ্জের এপিআর এনার্জি ৩০০ মেগাওয়াটের ডিজেলভিত্তিক কেন্দ্র। এটি ৫ বছরে বিল নিয়েছে ৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম দিতে হয়েছে সরকারকে ৫২ টাকা ৭২ পয়সা। সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের কাছ থেকে জায়গা ভাড়া নিয়ে এটি বসানো হয়েছিল। তার কাগজপত্র সরকার সংগ্রহ করছে। এছাড়া বাংলাট্রেক ২০০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিট ৫ বছরে বিল নিয়েছে ২ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা, ১০০ মেগাওয়াটের দ্বিতীয় ইউনিট নিয়েছে ১ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা, এগ্রিকো ১০০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রকে বিল দিতে হয়েছে ১ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা এবং এগ্রিকো বাংলাদেশ ১০০ মেগাওয়াটের কেন্দ্র বিল নিয়েছে ১ হাজার ৮১১ কোটি টাকা। প্রতি ইউনিট ৪০ টাকার বেশি বিক্রি করেছে পিডিবির কাছে। যদিও পিডিবি প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ গড়ে বিক্রি করে ৬ টাকা ৬৩ পয়সায়।

প্রতিযোগিতা ছাড়া ইচ্ছামতো চার্জ আদায় : তেলভিত্তিক আইপিপি আছে ৬৯টি। বিদ্যুৎ বিভাগ ও পিডিবির কাগজপত্রে জানা যায়, এর বেশির ভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্র বিশেষ আইনে দেওয়া হয়েছে। তবে এতে কোনো নিয়ম মানা হয়নি। যে যেভাবে পারে তার ক্যাপাসিটি চার্জ এবং সুবিধা আদায় করে নিয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে লেনদেন হওয়ার ইঙ্গিত আছে। যেমন ফাস্ট ট্র্যাক প্রজেক্টের আওতায় ইউনাইটেড ময়মনসিংহে ২০০ মেগাওয়াটের প্রকল্পের ট্যারিফ দেওয়া হয়েছে প্রতি ইউনিট ১০ দশমিক ৭০০ মার্কিন সেন্ট, দেশ এনার্জির চাঁদপুরের ২০০ মেগাওয়াটের প্রকল্পকে দেওয়া হয়েছে ১০ দশমিক ৬৫০ সেন্ট, সামিটের কড্ডা ৩০০ মেগাওয়াটের প্রকল্পকে দেওয়া হয়েছে ১০ দশমিক ৬০০ সেন্ট, ডোরিনের মানিকগঞ্জ ১৬২ মেগাওয়াটকে দেওয়া হয়েছে ১০ দশমিক ৫৩৫ সেন্ট। অথচ মিডল্যান্ড পাওয়ারের ১৫০ মেগাওয়াটের প্রকল্পকে দেওয়া হয়েছে ১০ দশমিক ৫০০ সেন্ট এবং বারাকার শিকলবাহা পাওয়ারকে দেওয়া হয়েছে ১০ দশমিক ৪৯৫ সেন্টে।

১৫ বছরে কত টাকার বিদ্যুৎ কিনল সরকার : বিভিন্ন তথ্যে দেখা যায়, ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত পিডিবি ৬ লাখ ১৭ হাজার ২২ কোটি ১ লাখ ২৭ হাজার টাকার বিদ্যুৎ কিনেছে (পিডিবির বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়া)। এর মধ্যে ক্যাপাসিটি চার্জ দিয়েছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ১৬৬ কোটি টাকার বেশি। আর জ্বালানি খরচ দিয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৭ কোটি টাকার বেশি। বাকি অর্থ বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণে বিভিন্ন কোম্পানিকে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে খরচ হয়েছে ২৭ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে আদানির বিদ্যুৎ আনতে খরচ দিতে হয়েছে ২৬ হাজার ২৭২ কোটি টাকা।

ড. তামিম যুগান্তরকে বলেছেন, শ্বেতপত্র কমিটি অনুসন্ধান করে দেখতে পেয়েছে ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা ২৭ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত হতে পারে। পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যানে এভাবে অস্বাভাবিক চাহিদা দেখিয়ে বিশেষ আইনে কোনো বাছ-বিচার না করে অসংখ্য প্রকল্প দেওয়া হয়। এতে করে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। ২০২০-২০২১ সালে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৬ দশমিক ৬১ টাকায় উৎপাদন হলেও ২০২৩-২০২৪ সালে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় ১১ দশমিক ৫১ টাকা।

আর্কাইভ