প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২৬, ১১:২৫ এএম
দেশের অন্যতম বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সফলতার ১২ বছর পূর্ণ করে ১৩তম বছরে পদার্পণ করেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই ড্যাশ–৮ কিউ৪০০ উড়োজাহাজ দিয়ে ঢাকা–যশোর রুটে যাত্রা শুরু করে ইউএস-বাংলা। বর্তমানে সংস্থাটির বহরে রয়েছে ২৫টি উড়োজাহাজ, যার মধ্যে ৩টি এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০ এবং ৯টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ রয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ৯০ শতাংশের বেশি সময়ানুবর্তিতার (On-time Performance) রেকর্ড ধরে রেখেছে এয়ারলাইনটি।

বর্তমানে ইউএস-বাংলা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, সৈয়দপুর ও রাজশাহী রুটে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করছে। আন্তর্জাতিক রুটে ২০১৬ সালের ১৫ মে ঢাকা–কাঠমান্ডু ফ্লাইটের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে কলকাতা, চেন্নাই, মালে, মাস্কাট, দোহা, দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি, জেদ্দা, রিয়াদ, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক ও গুয়াংজৌসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, শিগগিরই বহরে নতুন বোয়িং ৭৩৭-৮ ও বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এনজি উড়োজাহাজ যুক্ত হবে। ২০২৭ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যসহ দাম্মাম, মদিনা, বাহরাইন, কুয়েত, পাশাপাশি কাঠমান্ডু, কলম্বো, জোহর বাহরু, পেনাং ও হংকং রুটে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ২০২৮ সালের মধ্যে লন্ডন ও রোম এবং ২০৩০ সালের মধ্যে নিউইয়র্ক, টরন্টো ও সিডনি রুটে ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ইউএস-বাংলা জানায়, তারা ২০২৫ সালে সেরা দেশীয় এয়ারলাইন্স হিসেবে পুরস্কার অর্জন করেছে। এর আগে ২০১৫, ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালেও একই স্বীকৃতি লাভ করে।

বর্তমানে দেশ-বিদেশে প্রায় ৪ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন ইউএস-বাংলায়। প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত কর ও সারচার্জ পরিশোধের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
টিকিট বিক্রির জন্য ইউএস-বাংলার নিজস্ব ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ রয়েছে। এছাড়া দেশ-বিদেশে ৪০টিরও বেশি বিক্রয় অফিস, হাজারো ট্রাভেল এজেন্সি ও অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করা হয়। নিয়মিত যাত্রীদের জন্য রয়েছে ‘স্কাইস্টার’ (Skystar) ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লায়ার কর্মসূচি।
বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি এয়ারলাইন হিসেবে ইউএস-বাংলা সরাসরি চীনের কোনো গন্তব্য, ভারতের চেন্নাই এবং মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে অবতরণের মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে লাগেজ সরবরাহ তাদের অন্যতম বিশেষ সেবা। এ সেবার মূল বার্তা—‘আপনাকে লাগেজের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না; আপনার লাগেজই আপনার জন্য অপেক্ষা করবে।’
যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি ইউএস-বাংলা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গন্তব্যে কার্গো পরিবহন সেবাও দিয়ে থাকে। এছাড়া শিক্ষা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নেও প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, “প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমরা যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত। যাত্রীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক উড়োজাহাজের বিকল্প নেই। সে লক্ষ্যেই আমরা ধারাবাহিকভাবে বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করছি। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অংশীদার হতে পেরে ইউএস-বাংলা পরিবার গর্বিত।”
তিনি আরও বলেন, *“সফলতার এই ১২ বছরে সরকার ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ট্রাভেল এজেন্ট, ট্যুর অপারেটর, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রতি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে।”