প্রকাশিত: আগস্ট ৬, ২০২৬, ১১:৩৪ পিএম
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশিতে ভিআইপি, সিআইপি কিংবা সাধারণ যাত্রী—কোনো ধরনের ব্যতিক্রম রাখা হবে না। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (ক্যাব) এই অবস্থান শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি মৌলিক নীতি।
বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন যাত্রী বা ব্যক্তির সামাজিক, রাজনৈতিক কিংবা প্রশাসনিক পরিচয় তার সঙ্গে কোনো নিষিদ্ধ বস্তু, বিস্ফোরক বা নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নাকচ করে না। তাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নিরাপত্তা তল্লাশিতে বৈষম্য রাখা হলে পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাই দুর্বল হয়ে পড়ে।
বিশ্বজুড়ে অতীতে একাধিক ঘটনায় দেখা গেছে, বিশেষ সুবিধা বা প্রভাব খাটিয়ে নিরাপত্তা চৌকি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ অপরাধীরা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে। এ কারণেই আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (ICAO) সদস্য দেশগুলোকে ঝুঁকিভিত্তিক হলেও বৈষম্যহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিমানবন্দরের স্ক্যানার, মেটাল ডিটেক্টর, বডি সার্চ ও লাগেজ তল্লাশি শুধু অস্ত্র বা বিস্ফোরক শনাক্ত করার জন্য নয়; মাদক, নিষিদ্ধ রাসায়নিক, বিপজ্জনক বস্তু এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ঝুঁকিও প্রতিরোধ করে। একজন ব্যক্তিকে তল্লাশি থেকে অব্যাহতি দিলে পুরো নিরাপত্তা চেইনে একটি দুর্বল কড়ি তৈরি হয়, যা আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা ও দেশের নিরাপত্তা সুনামের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে বাংলাদেশের সামনে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) নিরাপত্তা নিরীক্ষা থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ। নিরীক্ষায় কোনো বড় ঘাটতি ধরা পড়লে দেশের বিমান নিরাপত্তার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুট পরিচালনাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভিআইপি-সিআইপিসহ সবার জন্য একই নিরাপত্তা নীতি কার্যকর হলে একদিকে যেমন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে, অন্যদিকে যাত্রীদের মধ্যেও আইনের সমতা ও স্বচ্ছতার বার্তা পৌঁছাবে। নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ব্যতিক্রম না রাখাই আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।