• ঢাকা বুধবার
    ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

আইএমএফের নতুন ঋণ আলোচনায় বাংলাদেশ, শর্ত নিয়ে দর-কষাকষি

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০৯:৪২ এএম

আইএমএফের নতুন ঋণ আলোচনায় বাংলাদেশ, শর্ত নিয়ে দর-কষাকষি

সিটি নিউজ ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ সহায়তা পেতে বাংলাদেশ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আগের ঋণ কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে আসার পর নতুন করে ঋণ নিতে চাইছে সরকার। ব্যাংককে চলমান বার্ষিক সভায় চলছে আইএমএফের সঙ্গে শর্তের দর-কষাকষি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন কর্মসূচির আওতায় মিলতে পারে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ। যার মেয়াদ হবে তিন বছর। চুক্তি সই হতে পারে আসছে ডিসেম্বরে। যার খসড়া রোডম্যাপ নির্ধারণে থাইল্যান্ডে আইএমএফের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন অর্থমন্ত্রী। পুরোনো শর্তেই নতুন ঋণের দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

এ বিষয়ে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সংস্কার কর্মসূচিগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে—এই বিষয়টি আমাদের নিজেদের মধ্যে উপলব্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এরপর এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আমরা যদি আইএমএফ থেকে ঋণ গ্রহণ করি, তাহলে মনে রাখতে হবে, এটি একটি ঋণ এবং এর সুদসহ আসল অর্থ পরিশোধ করতে হবে। সুতরাং, আমরা যদি আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারি এবং রাজস্ব আহরণ বাড়াতে পারি, তাহলে ঋণ পরিশোধের দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করতে পারব।

তথ্য বলছে, পুরোনো ঋণ বাতিলের পর এবার খানিকটা রক্ষণশীল আইএমএফ। আগের শর্তই তারা তুলে ধরছে নতুন করে। যার মধ্যে রয়েছে ব্যাংক ও রাজস্ব খাতের সংস্কার, জ্বালানি ও কৃষিতে ভর্তুকি কমানো, সরকারি পরিসংখ্যানের স্বচ্ছতা ও জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। ঋণ না নিলেও বাংলাদেশকে এসব সংস্কার করতেই হবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

তবে ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন জানান, আমরা যে কর্মসূচি নিয়ে এগিয়েছি, সেটিকে কঠিন শর্তযুক্ত বলা হয়েছিল। কিন্তু কোন শর্তটি কঠিন, তা কি স্পষ্ট করা হয়েছে? তা না হলে বিষয়টি নতুন বোতলে পুরোনো শরবত দেয়ার মতো হয়ে যাবে। এর ফলে যা হতে পারে, তা হলো—যে কাজটি হয়তো আগামী বছরের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল, মাঝখানে বিরতি আসায় সেই কাজ আরও দুই বছর পিছিয়ে যাবে। কিন্তু একই কাজ বাদ দিয়ে আপনি কীভাবে আরেকটি নতুন কর্মসূচি আনবেন?

এর আগের ৫৫০ কোটি ডলার ঋণ চুক্তি থেকে বাংলাদেশ ছাড় করতে পেরেছিল ৩৬৪ কোটি ডলার। তবে, শর্ত পূরণ জটিলতায় চলতি মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি থেকে বের হয়ে যায় বাংলাদেশ।

জাতীয় সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ