• ঢাকা বুধবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৩০ ভাদ্র ১৪২৯
জয়পুরহাট জেলা পরিষদ নির্বাচন

প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে বহিষ্কৃত নেতার সঙ্গে বৈঠক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২২, ০২:৪১ এএম

প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে বহিষ্কৃত নেতার সঙ্গে বৈঠক

মাহফুজ রহমান, জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাট জেলা পরিষদ নির্বাচন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা আব্দুল আজিজ মোল্লার সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা। শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জেলা শহরের রেলগেইট এলাকায় অবস্থিত হোটেল সুইট ড্রীমে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সমর্থন পেতে জয়পুরহাটের দশজন নেতার নাম কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে জমা দেয়া হয়। দলীয় সিদ্ধান্তে এ জেলায় প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা অধ্যক্ষ খাজা সামছুল আলমকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন দেয়া হয়।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ জেলা নির্বাচন অফিসে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন অধ্যক্ষ খাজা সামছুল আলম। তবে এ নির্বাচনে সরকার দলীয় সমর্থিত অধ্যক্ষ খাজা সামছুল আলমের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও দলের বহিষ্কৃত নেতা আব্দুল আজিজ মোল্লা। এ নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে জল্পনা-কল্পনার অন্ত নেই। এরই ধারাবাহিকতায় মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিতে আব্দুল আজিজ মোল্লার সঙ্গে শনিবার বৈঠক করেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।

বৈঠক শেষে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বলেন, ‘বৈঠকে জেলা পরিষদ নির্বাচন পদে আব্দুল আজিজ মোল্লার প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। চেয়ারম্যান পদে আমাদের দলীয় সমর্থন পেয়েছেন খাজা সামছুল আলম। উনার বয়স হয়েছে। নেত্রী দলীয় মনোনয়ন দেয়ায় আমরা তার পক্ষে কাজ করছি। আমরা আব্দুল আজিজ মোল্লার সঙ্গে সমঝোতার বৈঠক করেছি। তাকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে আজকে কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। এই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল আজিজ মোল্লা বলেন, ‘আজ আমাকে নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা বৈঠকে বসেন। সেখানে তারা আমাকে জানান যে, নেত্রী খাজা স্যারকে মনোনয়ন দিয়েছেন। উনার বয়সও হয়েছে, এটিই তার শেষ ইচ্ছা। তার ও নেত্রীর মান রক্ষার্থে আমাকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য তারা অনুরোধ করেছেন। আমি তাদের বক্তব্য শুনে বলেছি, আপনারা আমাকে দলেও রাখবেন না, আবার দলের বাইরে থেকে কাজ করলে তখনও অনুরোধ করবেন, এটা আবার কেমন কথা। নেত্রীর নির্দেশ তো আমার উপর
কার্যকর না। কারণ আমি তো দল থেকে বহিষ্কৃত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে আমি একদিন সময় নিয়েছি। আমার নিজস্ব কিছু লোকজন আছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে সোমবার সিদ্ধান্ত জানাব।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আরিফুর রহমান রকেট বলেন, ‘সামনে জেলা পরিষদ নির্বাচন। বয়স্ক একজন মানুষকে নেত্রী মনোনয়ন দিয়েছেন। তাকে চাপের মধ্যে না ফেলে আমরা সম্মান দিতে চাই। সেই উদ্দেশ্যেই এই বৈঠক করা হয়েছে।’

বৈঠকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আরিফুর রহমান রকেট, সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম সোলায়মান আলী, সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট মোমিন আহম্মেদ চৌধুরী জিপি, এ্যাডভোকেট নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল পিপি, গোলাম হাক্কানী, মহসীন আলী, জাহিদুল আলম বেনু, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মন্ডল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকসহ জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের ১৫-২০ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, আব্দুল আজিজ মোল্লা জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-২ (আক্কেলপুর-কালাই-ক্ষেতলাল) আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। পরে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর তিনি রাজনীতির মাঠ থেকে দূরে সরে যান। এখনও তাকে দলে ফিরিয়ে নেয়া হয়নি। জয়পুরহাট জেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
 

জেইউ

আর্কাইভ