• ঢাকা রবিবার
    ২৭ নভেম্বর, ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

স্মরণকালের বড় সমাবেশের প্রস্তুতি যশোরে, উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: নভেম্বর ২০, ২০২২, ১১:০৩ পিএম

স্মরণকালের বড় সমাবেশের প্রস্তুতি যশোরে, উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী

সিটি নিউজ ডেস্ক

যশোরের শামস্-উল হুদা স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা ঘিরে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন যশোর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও প্রশাসন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এটিই দলীয় ব্যানারে শেখ হাসিনার প্রথম জনসভা। এ জন্য সভাটিকে স্মরণকালের বড় গণসমাবেশে পরিণত করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিএনপির ৭টি গণসমাবেশের চেয়ে বড় জমায়েত করতে চায় দলটি। যে কারণে যশোর শহরটাই সমাবেশস্থলে পরিণত করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। অন্তত আট লাখ মানুষের জমায়েতের লক্ষ্য নিয়ে প্রচার- প্রচারণা চালাচ্ছেন নেতাকর্মীরা।

এদিকে, জনসভা ঘিরে চাঙ্গা হয়েছে আওয়ামী লীগের তৃণমূল। ইতোমধ্যে জেলার ৮ উপজেলা, ৮টি পৌরসভা ও ৯৩টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গণসংযোগ করছেন জনসভা সফল করার জন্য। সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, দাবি দলটির নেতাদের।

১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর যশোর স্টেডিয়ামের জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। একই স্টেডিয়ামে ৫০ বছর পর আগামী ২৪ নভেম্বর জনসভায় ভাষণ দিবেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঠিক পাঁচ বছর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর যশোর ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি। পাঁচ বছর পর এবারের জনসভা সফল করার লক্ষ্যে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু করেছে জেলা আওয়ামী লীগ।

জনসভায় ৮ লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিতে কাজ করছে আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রত্যেকটি ইউনিট। ইতোমধ্যে যশোরের শামস্-উল হুদা স্টেডিয়ামের নতুন রূপে সাজসজ্জার কাজ শুরু হয়েছে। স্টেডিয়ামের উত্তর পাশের জীর্ণ গ্যালারি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এতে স্টেডিয়াম ও ডা. আবদুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজ মাঠ একাকার হয়েছে। বিশাল মাঠে ব্যাপক জনসমাগম ঘটাতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জনসভা সফল করার লক্ষ্যে সাংগঠনিক নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন। প্রত্যেকটি ইউনিটের নেতাকর্মীরা তৃণমূলে জনসংযোগ করছেন। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও সফলতার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন। একইসঙ্গে জনসভায় হাজির হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

এদিকে যশোরের সাধারণ মানুষের মধ্যেও নতুন আশা জেগেছে। যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, যশোর বিমান বন্দর অন্তর্জাতিক করণ, ভবদহের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন, বেনাপোল বন্দর কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক জোন সৃষ্টি, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের নামে সাগরদাঁড়িতে সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনসহ একগুচ্ছ দাবি নিয়ে রাজপথে আছেন তারা। এসব দাবির বিষয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণে ইতোমধ্যে রাজপথে মানববন্ধন, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদানের মতো কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

জনসভা সামনে রেখে ইতোমধ্যে একাধিকবার স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা ও মন্ত্রী। সমাবেশস্থল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিরাও যশোরে অবস্থান করছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসভা উপলক্ষে এরই মধ্যে মাইকিং ও প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। শহরের বিভিন্ন সড়কে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। জনসভাটি সামনে রেখে শহরজুড়ে বিভিন্ন নেতা নিজেদের প্রচারে নেমেছেন। শহরের দড়াটানা মোড়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও গরীবশাহ সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক ও মোড়ে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানকে স্বাগত জানিয়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার টাঙিয়েছেন যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতারা।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এমপি বলেন, পাঁচ বছর যশোরের নেতাকর্মীরা নেত্রীকে কাছে পায় না। নেত্রীকে ভালোবেসে নেতাকর্মীরা একনজর দেখা দেখার জন্যে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস নিয়ে যশোরের জনসভায় যোগ দিবে। অনুষ্ঠানের আগের দিন থেকেই মানুষ জনসভাস্থলে আসতে শুরু করবে। সম্প্রতি সময়ে অনুষ্ঠিত বিএনপির গণসমাবেশের চেয়ে যশোরে অন্তত আট লাখ মানুষের জমায়েতের লক্ষ্য নিয়ে প্রচার- প্রচারণা চালাচ্ছেন নেতাকর্মীরা। 

জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, করোনা পরিস্থিতির আড়াই বছর পর যশোরে প্রথম জনসভায় ভাষণ দিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জনসমাগম হবে এই জনসভায়। জনসভায় সফল ও সার্থক করার লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহারুল ইসলাম বলেন, নেতাদের মধ্যে গ্রুপিং, দ্বন্দ্ব থাকতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। আগের দিনই নেতাকর্মীরা শুকনা খাবার সঙ্গে নিয়ে জনসভাস্থলে হাজির হবে। তারা নেত্রীকে খুব কাছ থেকে দেখতে চায়।

জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল মজিদ বলেন, নৌকার আদলে মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এই ঐতিহাসিক জনসভায় ৮ লাখ মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিতে জেলা আওয়ামী লীগ কাজ করছে। আশা করি জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে।’

এদিকে, জনসভা নিয়ে শনিবার রাতে যশোর প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষারসহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

আইএ/এএল

আর্কাইভ