প্রকাশিত: মার্চ ১, ২০২৬, ০৬:২০ পিএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি এই হত্যাকাণ্ডকে ‘নৃশংস’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
রোববার (১ মার্চ) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে পাঠানো এক শোকবার্তায় পুতিন বলেন, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সাইয়্যেদ আলি খামেনি এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমার গভীর সমবেদনা গ্রহণ করুন। মানবিক নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক আইনের সব নিয়মের নির্লজ্জ লঙ্ঘনের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।’
ক্রেমলিন প্রকাশিত ওই বার্তায় পুতিন আরও বলেন, ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের তথ্যমতে শনিবার ৮৬ বছর বয়সে খামেনি নিহত হন। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় তার মৃত্যু ঘটে বলে জানানো হয়।
পুতিন বলেন, ‘আমাদের দেশে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে একজন অসাধারণ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে স্মরণ করা হবে। তিনি রাশিয়া-ইরান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের উন্নয়ন এবং সেটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে নিয়ে যেতে ব্যক্তিগতভাবে বিশাল অবদান রেখেছেন।’
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘সর্বোচ্চ নেতার পরিবার ও ঘনিষ্ঠজন, ইরানের সরকার এবং সমগ্র ইরানি জনগণের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা ও সমর্থন পৌঁছে দেয়ার জন্য আপনাকে (প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান) অনুরোধ করছি।’
প্রসঙ্গত, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মূলত ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করেই এসব হামলা চালানো হয়। এতে খামেনিসহ ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, খামেনির নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি শামখানি, সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল রাহিম মুসাভি ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার-ইন-চিফ মোহাম্মদ পাকপুর প্রাণ হারান। এ ছাড়া হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতিও প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।
যৌথ হামলার জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে পুরো অঞ্চলে ব্যাপক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স