প্রকাশিত: এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
ইরানের শীর্ষ নেতাদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই এ দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
রুশ বার্তা সংস্থা `আরআইএ নভোস্তি`-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাকেই বলেন, শুধু ইরান নয়, পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ই এই ঘটনার জবাবদিহি দাবি করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে অপরাধ। এটি যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।
তিনি আরও জানান, ১৯৪৯ সালের চারটি জেনেভা কনভেনশনের সাধারণ অনুচ্ছেদ ১ অনুযায়ী, সব রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলতে বাধ্য। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পদক্ষেপ এসব নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে।
বাকেই বলেন, জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রের উচিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানানো। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক আইন ব্যবহার করে এই ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে কাজ চালিয়ে যাবে।
এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং কয়েকজন সামরিক কমান্ডার হত্যার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে বলে দাবি করা হয়। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ৪০ দিনব্যাপী পাল্টা হামলা চালায়, যেখানে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
এতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করে তেহরান, যার ফলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
পরিস্থিতি শান্ত করতে ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরান ১০ দফা প্রস্তাব দেয়, যার মধ্যে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে, টানা ২১ ঘণ্টার আলোচনার পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। আস্থার সংকট এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে ইরানি প্রতিনিধি দল আলোচনায় অগ্রগতি ছাড়াই তেহরানে ফিরে যায়।