প্রকাশিত: মে ২, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
মিত্রদেশ জার্মানি থেকে প্রায় ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পেন্টাগন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে বাড়তে থাকা মতবিরোধের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। খবর ডেইলি সাবার।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মার্জ সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন, ইরান আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে ‘হেয়’ করছে। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি মনে করেন ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা ঠিক-তিনি কী বলছেন, তা বোঝেন না।’ পেন্টাগনের মুখপাত্র সিন পারল্যান জানান, ‘আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে এই সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হবে।’
বর্তমানে জার্মানিতে প্রায় ৩৬ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যা ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় সামরিক উপস্থিতি। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করে আসছেন, তাদের নিজেদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব আরও বেশি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে।
সম্প্রতি তিনি ইতালি ও স্পেন থেকেও সেনা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইতালি আমাদের কোনো ধরনের সহায়তা করেনি, স্পেনও ভয়াবহ আচরণ করেছে… আমি কেন সেনা সরাব না?’
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে চলমান সংকট ও শান্তিরক্ষায় ইউরোপীয় দেশগুলোর সীমিত ভূমিকা নিয়েই ক্ষুব্ধ ওয়াশিংটন। এই কৌশলগত জলপথটি বর্তমানে ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলছে।
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডিফুল বলেন, ‘আমরা সেনা কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে প্রস্তুত এবং ন্যাটোর কাঠামোর মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’ তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, জার্মানির গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটিগুলো বিশেষ করে রেমস্টেইন বিমানঘাঁটি—অপরিহার্য এবং সেগুলো নিয়ে কোনো আলোচনা নেই।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমদানি করা গাড়ি ও ট্রাকের ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশে উন্নীত করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় সেনা সরানোর কথা জানিয়েছে পেন্টাগন। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইউরোপ বাণিজ্য চুক্তি মানছে না এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ঠকাচ্ছে’।