• ঢাকা মঙ্গলবার
    ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে যোগ দিচ্ছে আরও ১০ হাজার উত্তর কোরীয় সৈন্য

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ১১:১১ এএম

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে যোগ দিচ্ছে আরও ১০ হাজার উত্তর কোরীয় সৈন্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে রুশ সেনাবাহিনীর সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সময়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ায় বর্তমানে ৮ হাজারের বেশি উত্তর কোরীয় সেনা রয়েছে এবং আরও ১০ হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জারি করা এক প্রেসিডেনশিয়াল আদেশে পুতিন সক্রিয় রুশ সেনাসদস্যের সংখ্যা বাড়িয়ে ১৫ লাখ ৫০ হাজার করার নির্দেশ দেন। এর ফলে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর মোট সদস্যসংখ্যা দাঁড়াবে ২৪ লাখ ৪১ হাজার ৬৩০ জনে। গত আগস্টেও সেনাসংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন পুতিন। নতুন সিদ্ধান্তে সক্রিয় সেনাসদস্যের সংখ্যা আরও ১৫ হাজার ৫০০ জন বাড়বে।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ায় উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েন নিয়ে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সেনাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে রাশিয়ায় পাঠানোর জন্য বাছাই করা হচ্ছে।

গত বছর প্রথমবারের মতো পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন নিশ্চিত করেন, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করতে উত্তর কোরিয়া সেনা পাঠিয়েছে। দুই নেতা ওই সেনাদের ‘বীর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তা করতে উত্তর কোরিয়া আনুমানিক ১৫ হাজার সেনা পাঠিয়েছে। তাদের বেশিরভাগকে ইউক্রেনীয় বাহিনীর অনুপ্রবেশ ঠেকাতে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছিল।

এদিকে মঙ্গলবার ভোরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী এ তথ্য জানিয়েছেন। রাশিয়ার প্রায় প্রতিদিনের হামলার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল।

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো টেলিগ্রামে জানান, একটি আবাসিক ভবনের আঙিনায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে। শহরের অন্য একটি এলাকায় একটি অনাবাসিক ভবনেও আগুন ধরে যায়। এর আগে সোমবার জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, ইউক্রেনজুড়ে রুশ ড্রোন হামলায় ৯ জন নিহত ও ৮০ জনের বেশি আহত হয়েছেন, যার মধ্যে কিয়েভও রয়েছে।

যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়া ও ইউক্রেনকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন পোপ লিও। সোমবার ফ্রান্স সফর শেষে রোমে ফেরার পথে বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য রাশিয়া, ইউক্রেনসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নেতাদের আলোচনায় বসা এবং সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা উচিত।

পোপ লিও বলেন, ১৪০ কোটি সদস্যের ক্যাথলিক চার্চের শান্তি ও মানবজীবনের প্রতি সম্মান প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানোর দায়িত্ব রয়েছে। তার ভাষায়, রাশিয়া, ইউক্রেন ও অন্যান্য দেশের নেতাদের একত্র হয়ে আলোচনায় বসতে এবং সংলাপে অংশ নিতে আহ্বান জানানো চার্চের দায়িত্ব।

অন্যদিকে ইউরোপে রাশিয়ার নাশকতামূলক তৎপরতা ইউক্রেনকে সমর্থন করা থেকে দেশগুলোকে বিরত রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ন্যাটোর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ।

সোমবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আইনপ্রণেতাদের একটি কমিটিতে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত নাশকতা দিন দিন আরও দুঃসাহসী হয়ে উঠছে। জার্মানির একটি বিমানবন্দরে বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন পাওয়া এবং ডেনমার্কের একটি হেলিকপ্টারের দিকে রুশ নৌযান থেকে ফ্লেয়ার ছোড়ার ঘটনাকে তিনি এর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সের্হি কোরেতস্কি জানিয়েছেন, বিদেশি মিত্রদের কাছ থেকে সহায়তা পেতে বিলম্ব হওয়ায় সরকার পুনর্গঠনসহ কিছু ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি স্থগিত রাখবে। তিনি বলেন, এসব প্রকল্প পরবর্তীতে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে আপাতত সব সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় করতে হবে।

ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া-জার্মানি উত্তেজনার মধ্যে জার্মান খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান মেট্রো এজির রাশিয়ায় থাকা সম্পদ সাময়িক প্রশাসনের অধীনে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পুতিন। সোমবার রুশ সরকারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আদেশে এর কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

এর আগে একই ধরনের পদক্ষেপের আওতায় নেসলে ও ফরাসি প্রতিষ্ঠান অশাঁর রাশিয়ার ব্যবসা সাময়িক প্রশাসনের অধীনে নেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালের একটি ডিক্রির আওতায় ‘অবন্ধুসুলভ দেশগুলোর’ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

আর্কাইভ