প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির (এআরটি) ফলে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা ৮৫ থেকে ৮৬ শতাংশ পণ্যে শূণ্য শুল্ক সুবিধা মিলবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
তিনি বলেন, পৃথিবীর সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলারের একটা ইকোনমি। এই ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলারের ইকোনমির যে আমদানির প্রয়োজন, সেখানে আমাদের রপ্তানির অপার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’ চুক্তি সই নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ উত্তর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা একটা বাণিজ্যিক কাঠামোর উপরে ভিত্তি করে বিশ্ব বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছিল। মোটা দাগে এটাকে এমএফএন বেসিস ট্রেড বলা হয়। এই এমএফএন বেসিস ট্রেড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তারা ন্যাশনাল ইমারজেন্সি ডিক্লেয়ার করে তাদের ঘাটতিকে কমিয়ে আনার উদ্দেশ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম ট্যারিফ তারা আরোপ করা শুরু করে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আমাদের এক লাখ কোটি টাকার উপরে রপ্তানি হয় আমেরিকার বাজারে।
আমেরিকা ইজ ওয়ান অব আওয়ার মোস্ট ট্রেড সারপ্লাস এক্সপোর্ট ডেস্টিনেশন। আমাদের রপ্তানি গন্তব্যের সবচাইতে হায়েস্ট যে উদ্বৃত্ত যেখানে আমরা তৈরি করি, সেটা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আমাদের জন্য এই বাজারটা অতি সংবেদনশীল এবং অতি প্রয়োজনীয় একটা বাজার। এই বাজার প্রবেশ অধিকারকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার সামগ্রিকভাবে একান্ত প্রচেষ্টায় প্রথম ধাপে ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নিয়ে আসতে সমর্থ হয়।
এর বিনিময়ে যে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, আমাদের ৬ বিলিয়ন ডলারের উপরে যে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, এই ঘাটতি হ্রাসের লক্ষ্যে আমরা বেশ কিছু কাঠামোগত এবং আমাদের আমদানি উদারীকরণ করাকে লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করি। কিন্তু এই অ্যাগ্রিমেন্টটাকে ফরমাল রূপ দেওয়ার যে সুযোগ আমাদের ছিল, এই সুযোগের ভেতরে আমরা যে কাজটা করেছি, আমরা আরো নেগোশিয়েট করার চেষ্টা করেছি। এখানে আমাদের দুটো খুব বড় ধরনের অর্জন আছে। একটা অর্জন হচ্ছে আমরা ২০ শতাংশ থেকে ১৯ শতাংশে নিয়ে এসেছি। দ্বিতীয় হচ্ছে, আমাদের সকল রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৮৬ শতাংশ হচ্ছে গার্মেন্টস।
তিনি বলেন, এই গার্মেন্টসে আমরা যদি যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করি, সেই তুলা দ্বারা প্রস্তুতকৃত যে গার্মেন্টস আছে, সেই গার্মেন্টস যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শূন্য সম্পূরক শুল্কে প্রবেশাধিকার পাবে। সহজভাবে বললে আমাদের ৮৫ বা ৮৬ শতাংশ রপ্তানির উপরে শুল্ক শূন্য এবং ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ রপ্তানির উপরে সম্পূরক শুল্ক হবে ১৯ শতাংশ।
এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে জানিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, এই চুক্তির মধ্যে আমাদের এই শর্ত যুক্ত আছে যে, যদি প্রয়োজন হয়, আমরা একটা অ্যাপ্রোপ্রিয়েট নোটিশ দিয়ে এই চুক্তি থেকে বের হয়ে আসতে পারব। পরবর্তী সরকার যদি মনে করে যে, কোনো কারণে ওনাদের জন্য এটা উপযুক্ত নয়, সেটার ব্যাপারেও আমরা সচেতন ছিলাম। আমরা এটাকে (এক্সিট ক্লজ) চুক্তিতে সন্নিবেশ করেছি। এই মোটা দাগে আমাদের অর্জন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ তুলা আমদানিকারক দেশ। কারণ, বাংলাদেশ যে পরিমাণ গার্মেন্টস রপ্তানি করে, তার কোনো অংশ তুলা বাংলাদেশে হয় না। মাত্র ২ শতাংশ তুলা বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়। ৯৮ শতাংশ তুলা আমাদের ন্যাচারালি আমদানি করতেই হয়। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা আমাদের জন্য খুব ভালো। এটা আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সাহায্য করবে।
বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষি ও জ্বালানি পণ্য এবং ট্র্যাডিশনাল মেটাল স্ক্র্যাপসহ বেশ কিছু পণ্য আমদানি করার কথাও বলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা।
আমরা কি রপ্তানি বৃদ্ধির চেষ্টা করব না, এতে ঘাটতি আবার আগের মতো হয়ে যাবে—এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আমি যে ৮৬ শতাংশকে শুধু গার্মেন্টস বলেছি, তার বাইরে শূন্য শুল্ক সুবিধার আরও কিছু পণ্য রয়েছে। যেমন ফার্মাসিউটিক্যালস, বোর্ড, প্লাইউড, ফার্নিচার কম্পোনেন্ট। ফলে ১৯ শতাংশ শুল্ক হয়তো মোট পণ্যের ১০ শতাংশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। বাকি ৯০ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক কার্যত শূন্য। এর ফলে আমাদের রপ্তানির বড় সম্ভাবনা তৈরি হবে।