প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
ঋণের নামে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। অভিযোগে ব্যাংকটির সাবেক পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনার অনুরোধ করা হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে সম্প্রতি দুদকে অভিযোগটি দাখিল করা হয়। অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পাশাপাশি ব্যবসায়ী এস আলম, ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা জালিয়াতির মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়। পরবর্তী সময়ে ওই ঋণের অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের অভিযোগ অনুযায়ী, অ্যাননটেক্স গ্রুপের ইউনুস বাদলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের অনুকূলে ঋণ অনুমোদনে ব্যবসায়ী এস আলম ভূমিকা রাখেন। একই সঙ্গে তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের বিরুদ্ধেও অনৈতিকভাবে ঋণ অনুমোদনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল মাওলা, আব্দুল হামিদ মিয়া ও মাহবুব উল আলমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখেন। ইসলামী ব্যাংকের দাবি, চারটি অডিট ফার্মের মাধ্যমে বিষয়টি পর্যালোচনা করে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসঙ্গতি চিহ্নিত করা হয়েছে।
এখন কী হবে সাহাবুদ্দিনের?
দুদক অভিযোগটি যাচাই করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক নথি, ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া এবং অর্থের গতিপথ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। সে ক্ষেত্রে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকেও তলব করা হতে পারে।
তবে দুদকে অভিযোগ দায়ের হওয়া অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমান নয়। অনুসন্ধানে সাহাবুদ্দিনের প্রকৃত ভূমিকা, ঋণ অনুমোদনে তার সম্মতি বা অংশগ্রহণ এবং আর্থিক সুবিধা নেওয়ার কোনো প্রমাণ ছিল কি না—এসব বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
দুদক অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরু করলে ঋণ অনুমোদনের বোর্ড সভার কার্যবিবরণী, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, অডিট রিপোর্ট, অর্থ ছাড়ের তথ্য এবং ঋণের অর্থ কোথায় ব্যবহার বা স্থানান্তর করা হয়েছে—এসব খতিয়ে দেখতে পারে।
প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ারও সুযোগ রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার বা তার বিরুদ্ধে মামলা হবে—এমন কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু ৫০০ কোটি টাকার ঋণ
ইসলামী ব্যাংকের অভিযোগের মূল বিষয় হলো—একটি প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা কীভাবে ১০০ কোটি টাকা থেকে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছিল এবং ওই অর্থ কীভাবে উত্তোলন ও ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে দুদকের সম্ভাব্য অনুসন্ধানে ঋণ অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়াটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
আইনগতভাবে এখন পর্যন্ত এটি একটি অভিযোগ; অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। দুদকের অনুসন্ধান ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে কার বিরুদ্ধে কী ধরনের দায় প্রতিষ্ঠিত হয়।