প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম
টানা দ্বিতীয় রাতেও একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেও উত্তেজনা কমিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান, কাতারসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এখনো একটি সমাধানে পৌঁছাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
উভয় পক্ষকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরাতে গত বুধবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একাধিক ফোনালাপের ব্যবস্থা করে কাতার, পাকিস্তান ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশ। মধ্যস্থতায় জড়িত একটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, প্রথমে উভয় পক্ষকে উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে সম্মত করানো এবং এরপর কারিগরি পর্যায়ের পরবর্তী বৈঠকের তারিখ নির্ধারণে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।
হোয়াইট হাউস থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক কিম্বার্লি হ্যালকেট জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখনো কারিগরি পর্যায়ের আলোচনার প্রতিশ্রুতি ধরে রেখেছে।
মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর দুটি সূত্র ও এক মার্কিন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, কাতার, পাকিস্তান ও অন্যান্য আঞ্চলিক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক ও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ। এরপর তিনি দুই দফায় ইরানে বিমান হামলার নির্দেশ দেন। তবে তখনও তার মূল লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এড়ানো।
মধ্যস্থতাকারীদের ধারণা, সাম্প্রতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও আগের আলোচনা একটি পরমাণু চুক্তির দিকে অগ্রসর হয়েছিল। তাই তারা সমঝোতা স্মারকটি ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করতে চান।
একটি আঞ্চলিক সূত্রের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে সাম্প্রতিক ইরানি হামলাগুলো ইরানের অভ্যন্তরের এমন কিছু পক্ষ চালিয়েছে, যারা সমঝোতা স্মারকের বিরোধী এবং সেটি ভেস্তে দিতে চায়।
পরিস্থিতি শান্ত করতে কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর ও সৌদি আরবের কর্মকর্তারা বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে কথা বলেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, তিনি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে বলেছেন, মার্কিন হামলা ও তাদের বক্তব্য সমঝোতা স্মারকের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
দুই দিন ধরে দফায় দফায় হামলার পর বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল। দক্ষিণ ইরানে বিস্ফোরণের কিছু খবর প্রকাশ পেলেও মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ওই দিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো হামলা চালায়নি।
এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এটি উত্তেজনা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ইতিবাচক ফল। এদিন বিকেলে ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করে ইরান পরিস্থিতি ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠকের পর এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প প্রশাসন এখনো একটি সমাধানে পৌঁছাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পরমাণু চুক্তির লক্ষ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে নিরীহ বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের হামলা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। তার ভাষায়, সমঝোতা স্মারকের কার্যকারিতা নির্ভর করে বাস্তব পদক্ষেপের ওপর, আর ইরানের এসব কর্মকাণ্ড একটি অগ্রহণযোগ্য ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: অ্যাক্সিওস