• ঢাকা সোমবার
    ০৪ মে, ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঝড়, ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় মমতার তৃণমূল

প্রকাশিত: মে ৪, ২০২৬, ০১:২২ পিএম

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঝড়, ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় মমতার তৃণমূল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা যত এগোচ্ছে, ততই রাজ্যের রাজনৈতিক চিত্র দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। দুই দফার ভোটগ্রহণের পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সোমবার (৪ মে) স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় শুরু হয় ভোট গণনা। গণনার শুরু থেকেই এগিয়ে রয়েছে বিজেপি, আর টানা তিন দফা ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস এখন বড় ধাক্কার মুখে। ১৫ বছরের শাসনের পর দলটি পরাজয়ের আশঙ্কায় পড়েছে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা চলছে এবং ইতোমেধ্যেই অর্ধেকের বেশি আসনে বেশ ভালো ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে, টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস এবার পরাজয়ের মুখে পড়তে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে। ভোটের আগে বিতর্কিত এসআইআর প্রক্রিয়ায় রেকর্ডসংখ্যক ভোটার বাদ পড়ার পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনেই প্রথমবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

মূলত নিজেদের শক্ত ঘাঁটি রক্ষার লড়াইয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সরাসরি মুখোমুখি হয়েছে বিজেপির সঙ্গে। বিজেপির হয়ে এই লড়াইয়ের প্রধান মুখ হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাবেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

অন্যদিকে কংগ্রেস ও বামফ্রন্টও নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের গড়া নতুন দল। কারণ তিনি ‘বাবরি মসজিদ’ নামে একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন।

গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ফলতা আসনে এবং আরও কয়েকটি কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মোট আসন ২৯৪টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন সরল সংখ্যাগরিষ্ঠতা, অর্থাৎ কমপক্ষে ১৪৮টি আসন। ক্ষমতায় যেতে হলে যে কোনও দল বা জোটকে এই ‘ম্যাজিক সংখ্যা’ অর্জন করতে হবে।

এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, ভোটগণনা শুরুর প্রথম চার ঘণ্টায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে মমতার তৃণমূল ৯৩টি আসনে এগিয়ে আছে। আর বিজেপি ১৯৭টি আসনে এগিয়ে আছে। অন্যদিকে কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের তথ্য অনুযায়ী, ভোটগণনা শুরুর প্রথম চার ঘণ্টায় তৃণমূল কংগ্রেস ১০২টিতে এবং বিজেপি ১৮৩টি আসনে এগিয়ে আছে।

এবারের নির্বাচনে এক্সিট পোলগুলো কোনও স্পষ্ট বিজয়ীর পূর্বাভাস দিতে পারেনি। মূলত এক্সিট পোলগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস থাকলেও বেশিরভাগ জরিপে বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পিপলস পালস ও জনমত— এই দুটি সংস্থা মমতার দল জয় পেতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে।

পিপলস পালসের হিসাবে মমতার টিএমসি ১৭৭-১৮৭ আসন, বিজেপি ৯৫-১১০, বামফ্রন্ট ০-১ এবং কংগ্রেস ১-৩ আসন। অন্যদিকে জনমতের পূর্বাভাস অনুযায়ী, টিএমসি ১৯৫-২০৫, বিজেপি জোট ৮০-৯০ এবং কংগ্রেস ১-৩ আসন পেতে পারে।

এর আগে ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২১৫টি আসনে জয় পেয়ে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসে। বিজেপি সেসময় ৭৭টি আসন পেয়ে প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দলে পরিণত হয়। কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট তখন কোনও আসনই পায়নি। সেই নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পরে ভবানীপুর উপনির্বাচনে জিতে বিধায়ক হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ধরে রাখেন।

এবার সেই ভবানীপুরেই মমতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছেন শুভেন্দু অধিকারী। অবশ্য ভবানীপুরে চতুর্থ রাউন্ড ভোটগণনা শেষে পিছিয়ে রয়েছেন শুভেন্দু। আর আট হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন মমতা। পরে পঞ্চম দফা ভোট গণনা সম্পন্ন হয়। পঞ্চম রাউন্ড শেষে ভবানীপুর বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারী ৯ হাজার ২৩৬ ভোট ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২৫ হাজার ৯৪২ ভোট পেয়েছেন। অর্থাৎ বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দুর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ এই নেত্রী ১৬ হাজার ৭০৬ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। এই আসনে মোট ২০ রাউন্ড ভোটগণনা হবে।

অবশ্য পশ্চিমবঙ্গে এবারের নির্বাচনে কোনও একক আসনে লড়াই সীমাবদ্ধ নেই। গোটা রাজ্যজুড়ে আদর্শের সংঘাত, তৃণমূল পর্যায়ের রাজনীতি, উন্নয়ন ও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির প্রতিযোগিতা— সব মিলিয়ে এক তীব্র রাজনৈতিক লড়াই দেখা গেছে। বাম শাসনের পতনের ১৫ বছর পর আবারও পরিবর্তনের ডাক এবার নতুন করে সামনে এসেছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ