• ঢাকা শুক্রবার
    ০৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড আরোপ দুঃখজনক হলেও অস্বাভাবিক নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড আরোপ দুঃখজনক হলেও অস্বাভাবিক নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

সিটি নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত আরোপের বিষয়টি দুঃখজনক হলেও অস্বাভাবিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমেরিকা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়। অনেক দেশের ক্ষেত্রেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যেসব দেশের অভিবাসন নিয়ে সমস্যা রয়েছে, বাংলাদেশ তাদের মধ্যে একটি। আপনারা আমেরিকানদের কৌশল দেখেছেন-যারা সেখানে গিয়ে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুযোগ নিচ্ছে, তাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা বেশি।

তিনি বলেন, এ কারণে যদি কিছু দেশের ওপর তারা বিধিনিষেধ আরোপ করে এবং তার মধ্যে বাংলাদেশ থাকে, তাহলে সেটা আমার কাছে খুব অস্বাভাবিক মনে হয় না। তবে এটি অবশ্যই দুঃখজনক এবং আমাদের জন্য কষ্টকর।

তৌহিদ হোসেন বলেন, যদি এটি গত এক বছরে ঘটে থাকত, তাহলে আমি বলতাম-আমরা দায়ী, এই সরকারের কিছু দায়দায়িত্ব আছে। কিন্তু এই পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। কাজেই নীতিগতভাবে দায় যদি কারও ওপর পড়ে, তাহলে তা পূর্ববর্তী সব সরকারের ওপরই পড়ে।

তিনি আরও বলেন, মানুষের এই অবাধ চলাচল থামানোর সামর্থ্য কোনো সরকারেরই ছিল না।

বর্তমান সরকারও তা একা পরিবর্তন করতে পারবে না। এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের অনিয়মিত অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নীতিগতভাবে প্রথম দিন থেকেই আমরা অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছি। একমাত্র সমাধান হলো-অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করা। এখনো আমরা পত্রপত্রিকায় দেখি, কেউ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে মারা যাচ্ছে, কেউ হাবুডুবু খেয়ে উদ্ধার হচ্ছে। তারা ভিকটিম-তাদের প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ সহানুভূতি আছে।

তবে একই সঙ্গে আইনও লঙ্ঘিত হচ্ছে। তিনি বলেন, গ্রামের যে ছেলেটি টুরিস্ট ভিসা নিয়ে কেনিয়া যায়, তার তো আসলে কেনিয়া বা তুরস্কে যাওয়ার সামর্থ্য থাকার কথা নয়। আমরা কেন এটা থামাতে পারছি না? যতক্ষণ পর্যন্ত এটা বন্ধ করতে না পারব, ততক্ষণ ভূমধ্যসাগরে মানুষ মরতেই থাকবে।

এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে গত মঙ্গলবার জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে ৩৮টি দেশের নাগরিকদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত দিতে হবে। প্রথমে গত বছরের আগস্টে ছয়টি দেশের নাম তালিকায় যুক্ত করা হয়। পরে আরও সাতটি দেশের নাম যুক্ত করা হয়। সর্বশেষ বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশের নাম এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে যুক্ত হওয়া দেশগুলোর জন্য এই বন্ডের শর্ত আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

ভিসা বন্ড আরোপ বন্ধে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এটা সদ্য হয়েছে। আমরা প্রচলিত কূটনৈতিক পদ্ধতিতেই এগোব। চেষ্টা করব, যেন বাংলাদেশ এ শর্ত থেকে অব্যাহতি পায়।

এই তালিকায় থাকা দেশগুলো হলো-
আলজেরিয়া (২১ জানুয়ারি ২০২৬); অ্যাঙ্গোলা (২১ জানুয়ারি ২০২৬); অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা (২১ জানুয়ারি ২০২৬); বাংলাদেশ (২১ জানুয়ারি ২০২৬); বেনিন (২১ জানুয়ারি ২০২৬); ভুটান (১ জানুয়ারি ২০২৬); বতসোয়ানা (১ জানুয়ারি ২০২৬); বুরুন্ডি (২১ জানুয়ারি ২০২৬); কাবো ভার্দে (২১ জানুয়ারি ২০২৬); মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র (১ জানুয়ারি ২০২৬); কোট দিভোয়ার (২১ জানুয়ারি ২০২৬); কিউবা (২১ জানুয়ারি ২০২৬); জিবুতি (২১ জানুয়ারি ২০২৬); ডোমিনিকা (২১ জানুয়ারি ২০২৬); ফিজি (২১ জানুয়ারি ২০২৬); গ্যাবন (২১ জানুয়ারি ২০২৬); গাম্বিয়া (১১ অক্টোবর ২০২৫); গিনি (১ জানুয়ারি ২০২৬); গিনি-বিসাউ (১ জানুয়ারি ২০২৬); কিরগিজস্তান (২১ জানুয়ারি ২০২৬); মালাউই (২০ আগস্ট ২০২৫); মৌরিতানিয়া (২৩ অক্টোবর ২০২৫); নামিবিয়া (১ জানুয়ারি ২০২৬); নেপাল (২১ জানুয়ারি ২০২৬); নাইজেরিয়া (২১ জানুয়ারি ২০২৬); সাও টোমে ও প্রিন্সিপে (২৩ অক্টোবর ২০২৫); সেনেগাল (২১ জানুয়ারি ২০২৬); তাজিকিস্তান (২১ জানুয়ারি ২০২৬); তানজানিয়া (২৩ অক্টোবর ২০২৫); টোগো (২১ জানুয়ারি ২০২৬); টোঙ্গা (২১ জানুয়ারি ২০২৬); তুর্কমেনিস্তান (১ জানুয়ারি ২০২৬); টুভালু (২১ জানুয়ারি ২০২৬); উগান্ডা (২১ জানুয়ারি ২০২৬); ভানুয়াতু (২১ জানুয়ারি ২০২৬); ভেনেজুয়েলা (২১ জানুয়ারি ২০২৬); জাম্বিয়া (২০ আগস্ট ২০২৫); জিম্বাবুয়ে (২১ জানুয়ারি ২০২৬)। 

এর আগে ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্য কিছু ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা বন্ড চালুর উদ্যোগ নেয়, কিন্তু পরে তা বাতিল করে।

নিয়ম অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পাওয়ার সময় ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে বাধ্য হতে পারেন। আবেদনকারী ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হলেও সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার অফিসার তার ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বন্ড আরোপের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

এই বন্ডের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’-এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসারের নির্দেশনা ছাড়া কোনো অর্থ জমা না দেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

জাতীয় সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ