প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ১১:০২ এএম
যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ওয়াশিংটন ডিসিতে দেশটির পররাষ্ট্র দফতরের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট মিস অ্যালিসন হুকার এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অব স্টেট মি. পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা ইস্যু এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
আন্ডার সেক্রেটারির সঙ্গে বৈঠকে ড. রহমান আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে মিস হুকারকে অবহিত করেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে নির্বাচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এসময় মিস হুকার বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত রয়েছে এবং তারা ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করছে।
ড. খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে কৃষিপণ্য আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। সাম্প্রতিক ভিসা বন্ডের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ সহজ করার অনুরোধ জানান এবং সম্ভব হলে স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক ভিসা (বি-১) থেকে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভিসা বন্ড অব্যাহতির প্রস্তাব দেন তিনি।
মিস হুকার জানান, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পর্যটকদের ওভারস্টে উল্লেখযোগ্যভাবে কমলে বন্ড সংক্রান্ত শর্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে বলেও অবহিত করেন তিনি। এছাড়া, অনথিভুক্ত বাংলাদেশিদের প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের সহযোগিতার জন্য তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ড. রহমান বাংলাদেশে আশ্রিত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহায়তার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। যুক্তরাষ্ট্র যে রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে বড় দাতা— এটি উল্লেখ করে তিনি সহায়তা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান।
মিস হুকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে উল্লেখযোগ্য দায়িত্ব বহন করার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বোঝা ভাগাভাগির প্রয়োজনীয়তা এবং সংকটের টেকসই সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গারা যতদিন বাংলাদেশে থাকবে, ততদিন তাদের জীবিকাভিত্তিক সুযোগ সম্প্রসারণের অনুরোধ জানান।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. রহমান বাংলাদেশি বেসরকারি খাতের জন্য ডিএফসি অর্থায়নে প্রবেশাধিকার এবং বাংলাদেশে সেমিকন্ডাক্টর উন্নয়নে অর্থায়নের সুযোগ বিবেচনার অনুরোধ জানান। আন্ডার সেক্রেটারি হুকার এসব প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
ড. রহমান গাজায় মোতায়েন হতে পারে এমন আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে নীতিগতভাবে বাংলাদেশের অংশগ্রহণে আগ্রহের কথা জানান। আন্ডার সেক্রেটারি হুকার বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী।
এদিন আলাদা বৈঠকে অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অব স্টেট মি. পল কাপুরের সঙ্গে ড. রহমান বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন, যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ পারস্পরিক আগ্রহের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ড. রহমান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মি. ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট ফর ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্সেস মি. মাইকেল জে. রিগাস তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাস কর্মকর্তারা, স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা, বাংলাদেশে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূতরা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যে ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন,`উজ্জ্বল গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে বাংলাদেশের যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন জানায়। নির্বাচনের ফলাফল দেখার জন্য আমি আগ্রহী এবং নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে প্রত্যাশী।`
সফরের সব কর্মসূচিতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।