প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৮, ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে কূটকৌশলের অভিযোগ তুলে বিএনপি এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলেছে। একইসঙ্গে দলটির প্রতি ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খানসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পোস্টাল ব্যালট ও মুদ্রণে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পোস্টাল ব্যালটের বিষয়টি এখনো সমাধান হয়নি। বিশেষ করে প্রবাসীদের ব্যালট পেপার পৌঁছানো এবং এর মুদ্রণ প্রক্রিয়ায় একটি নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। অবিলম্বে এই ব্যালট পেপার পরিবর্তন করতে হবে। দেশের ভেতরে যে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হবে সেগুলো প্রতীক বরাদ্দের পর পাঠানো হয়।
ঢাকা সিটিতে ভোটার স্থানান্তরে ‘কূটকৌশল’ করা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল তাদের প্রার্থীদের জয়ী করতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক ভোটারকে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় স্থানান্তর করেছে। কোন তারিখে, কী কারণে এবং কতজন ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য জরুরি ভিত্তিতে সরবরাহের জন্য ইসির কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এনআইডি ও ব্যক্তিগত তথ্য পাচারের অভিযোগ তুলে বিএনপির মহাসচিব বলেন, জামায়াতের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের এনআইডি কপি, বিকাশ নম্বর এবং মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছে, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার চরম লঙ্ঘন এবং একটি ‘ক্রিমিনাল অফেন্স’। এ বিষয়ে ইসিকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
‘পক্ষপাতদুষ্ট’ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবি তুলে তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও পুলিশ কর্মকর্তারা একটি দলের পক্ষ নিয়ে ‘ন্যক্কারজনক’ কাজ করছেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এসব বিতর্কিত কর্মকর্তাকে দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে। এছাড়া ইসির কতিপয় সিনিয়র কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে নির্বাচন ভবনের বাইরে চলমান ছাত্রদলের আন্দোলনের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধ হওয়া নির্বাচন পুনরায় চালু করার অনুমতি দিয়ে ইসি নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা না করলে নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
ছাত্রদলের এই আন্দোলন তাদের ব্যাপার।
তিনি বলেন, আমরা সবসময় কমিশনকে সহযোগিতা করতে চাই। তাদের মাঝে চেষ্টা থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে বায়াসড (পক্ষপাতমূলক) আচরণ দেখা যাচ্ছে। এই ত্রুটিগুলো সংশোধন করলে এবং আমাদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো সমাধান করলে এই কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব বলে আমরা বিশ্বাস করি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।