• ঢাকা বৃহস্পতিবার
    ০২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২

অন্তর্বর্তী সরকারের ৯৮ অধ্যাদেশ হুবুহু উত্থাপন, ২০টি এখনই বিল নয়

প্রকাশিত: এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম

অন্তর্বর্তী সরকারের ৯৮ অধ্যাদেশ হুবুহু উত্থাপন, ২০টি এখনই বিল নয়

সিটি নিউজ ডেস্ক

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। প্রথম অধিবেশনের সপ্তম দিনে আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উত্থাপন করেন সভাপতি জয়নুল আবেদীন।

১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে গণভোট, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, বিচারক নিয়োগ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ ২০টিকে এখনই আইনে রূপ না দেওয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় এই বিশেষ কমিটি।

এর মধ্যে চারটি বাতিল ও হেফাজতের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। আর ১৬টি অধ্যাদেশকে পরবর্তীতে অধিকতর যাচাইবাছাইয়ের মাধ্যমে শক্তিশালী নতুন বিল আনার সুপারিশ করেছে।

যেই চারটি অধ্যাদেশ রহিতকরণের সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো হলো— জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, ২০২৪; সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫; সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬।

সংসদে এখনই বিল আকারে না তোলার সুপারিশ করা অপর ১৬টি অধ্যাদেশ হচ্ছে— গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ-২০২৫, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, মাইক্রো ফাইনান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ-২০২৬ এবং তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬।

এই ১৬ অধ্যাদেশের মধ্যে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ ছাড়া বাকিগুলোতে বিরোধী দল নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ পুনরায় বসার পর ৩০ দিনের মধ্যে আইন না হলে অধ্যাদেশ ‘ল্যাপস’ হয়ে যায়। অর্থাৎ, যেসব অধ্যাদেশ ১২ এপ্রিলের মধ্যে সংসদে অনুমোদন হবে না সেগুলোর কার্যকারিতা লোপ পাবে। সে হিসেবে এসব অধ্যাদেশ সয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার পথে।

এছাড়া, ৯৮টি অধ্যাদেশে কোনো পরিবর্তন না এনে হুবহু এবং ১৫টি সংশোধন করে বিল আকারে তোলার সুপারিশ করা হয়। তবে কোথায় কী সংশোধনী আনা হবে, তা বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

এই ১৫ অধ্যাদেশ হলো— ২০২৫ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ, কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট), জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মানবদেহে অঙ্গ–প্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধান) অধ্যাদেশ, ২০২৬ সালের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বেসসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারি অবসর সুবিধা (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ।

জাতীয় সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ