• ঢাকা মঙ্গলবার
    ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩

সংসদে গাড়ি চাইলেন হাসনাত, জামায়াত আমির বললেন, ছোটদের ‘না’ বলতে নেই

প্রকাশিত: এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১০:০১ পিএম

সংসদে গাড়ি চাইলেন হাসনাত, জামায়াত আমির বললেন, ছোটদের ‘না’ বলতে নেই

সিটি নিউজ ডেস্ক

সংসদ সদস্যদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি না নেওয়ার’ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন স্মরণ করিয়ে দেন। তখন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছোটদের ‘না’ বলতে নেই।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এসব কথা হয়।এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন।

অবশ্য ‘সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি না নেওয়ার’ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি গাড়ির বিষয়ে আলাপ–আলোচনা করে একটা বিহিত-ব্যবস্থা করার জন্য সরকারপ্রধানের প্রতি অনুরোধও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এদিকে গত ৩১ মার্চ নির্বাচনি এলাকায় সংসদ সদস্যদের বসার জায়গা করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন এনসিপির সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান। আজ অধিবেশনের এক পর্যায়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংসদে ফ্লোর নিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, উপজেলা পরিষদগুলোতে এখন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্যদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বিশেষ ‘পরিদর্শন কক্ষ’ প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রীর পরামর্শক্রমে ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত সরকারি আদেশ বা জিও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) বরাবর জারি করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, উপজেলা পরিষদের নতুন বা পুরাতন কমপ্লেক্স ভবনের দ্বিতীয় তলায় যেখানে যে অবস্থা রয়েছে, সেখানেই এটাচ বাথরুম ও উন্নতমানের আসবাবপত্রসহ সংসদ সদস্যদের বসার জন্য একটি কক্ষ প্রস্তুত করে দেওয়া হবে। বিধিমালা অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের নামে সরাসরি কক্ষ বরাদ্দের সুযোগ না থাকায় এই কক্ষটির নাম হবে ‘পরিদর্শন কক্ষ’। এখানে বসে এমপিরা তাদের প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি দেখা-সাক্ষাৎ ও সময় ব্যয় করার সুযোগ পাবেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো সংসদ সদস্যের নির্বাচনি এলাকায় যদি একাধিক উপজেলা থাকে, তবে প্রতিটি উপজেলাতেই তার জন্য এমন অফিস বা পরিদর্শন কক্ষের ব্যবস্থা থাকবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সব সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম।

এ সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরাও বিপুল উৎসাহে টেবিল চাপড়িয়ে বিষয়টিকে স্বাগত জানান।

পরে এই সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, একটা বসার জায়গা অন্তত হয়েছে। এ সময় সংসদ সদস্যদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করার কথা বলেন হাসনাত। তিনি বলেন, ‘আমরা লজ্জায় একটা কথা বলি না। এই পার্লামেন্টের সেকেন্ড মোস্ট জুনিয়র হিসেবে একটা কথা বলছি। সেটা হচ্ছে যে আমাদের ইউএনও মহোদয়ের একটা, উপজেলা চেয়ারম্যানেরও একটা গাড়ি থাকে। আমাদের ভাড়ায় গাড়ি চালাইতে হয়। আমাদের যদি... আমরা লজ্জায় এটা বলতে পারি না। আমরা এটা লজ্জায় কোথাও বলতে পারি না। এখন আমাদের একটা বসার ব্যবস্থা করে দিছে, এখন মানুষের কাছে যাওয়ার জন্য যদি একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে দেয়, তাইলে আমাদের জন্য একটু সুবিধা হয়, মানুষের কাছে একটু যাইতে পারি।’

হাসনাতের এ কথার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেদিন সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন, সেদিন সংসদীয় দলের বৈঠকে দুটি অনুশাসন দেন। সংসদ সদস্যরা জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আলাদা কোনো সুযোগ-সুবিধা নেবেন না। কোনো সদস্য শুল্কমুক্ত গাড়ি নেবেন না।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের কিছু সুবিধা কমানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য নিশ্চয়ই অফিস পেয়ে খুশি হয়েছেন। আবার গাড়ি না পেলে নাখোশ হবেন। সে জন্য কিভাবে কী করা যায়, সংসদ সদস্যদের যানবাহনের ব্যবস্থা, সেটা আলাদাভাবে আলাপ-আলোচনা করে সরকারি দল, বিরোধী দল; একটা বিহিত-ব্যবস্থা করার জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

এরপর বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে বলেন, তিনি ধন্যবাদ দিতে দাঁড়িয়েছেন। কারণ, বিরোধী দলেরই একজন সদস্য এই দাবি সামনে এনেছিলেন। জামায়াত আমির বলেন, একটা কথা আছে যে ছোটদের কখনো ‘না’ বলতে নেই। তাদের আবদারে সব সময় ‘হ্যাঁ’ বলতে হয়। হাসনাত আবদুল্লাহ বলে ফেলেছেন। সঙ্গে সঙ্গে না বললে আমি বেশি খুশি হইতাম।

পরে জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, সরকারি দল শুল্কমুক্ত গাড়ি না নেওয়ার কথা বলেছে। বিরোধীদলীয় নেতাও বহু আগেই বলেছেন, বিরোধী দলের সদস্যরা শুল্কমুক্ত গাড়ি নেবেন না।

আর্কাইভ