• ঢাকা বুধবার
    ০৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

যেসব কারণে সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে যেতে চান না বসুন্ধরার বাসিন্দারা

প্রকাশিত: মে ৬, ২০২৬, ১০:০৫ পিএম

যেসব কারণে সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে যেতে চান না বসুন্ধরার বাসিন্দারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

মহানগরী ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা বাংলাদেশের অন্যতম বিশেষায়িত একটি নগরায়ণ প্রকল্প। এখানকার নাগরিক সুবিধা ঢাকার সিটির অন্যান্য এলাকার তুলনায় উন্নত ও নিরাপদ। এ ধরনের স্পেশালাইজড প্রাইভেট টাউনে যে সব সুবিধা রয়েছে, তা ঢাকা সিটি করপোরেশনের আওতাধীন অন্যান্য এলাকায় নেই। এই কারণেই বাসিন্দারা সিটি করপোরেশনের আওতায় যেতে চান না।

বসুন্ধরার বাসিন্দাদের শঙ্কা, সিটি করপোরেশন বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির মতো করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। ফলে সন্ত্রাস ও মাদকের ঝুঁকি বাড়বে এবং নষ্ট হয়ে যাবে বাসিন্দাদের শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ আবাস।

বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নিজস্ব অর্থায়নে নিরাপত্তা, রাস্তা, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ সব নাগরিক সেবা প্রদান করছে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে উন্নত, আধুনিক ও নিরাপদ সেবায় অভ্যস্ত। তাদের দাবি, দেশের অন্যান্য আবাসিক এলাকার তুলনায় বসুন্ধরা বেশি নিরাপদ, সুরক্ষিত, পরিচ্ছন্ন এবং মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত।

এলাকার বাসিন্দারা তাদের আবাসিক প্রকল্পের সেবার নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) হাতে দিতে চান না। এসব কারণে তারা হোল্ডিং ট্যাক্স ও সার্ভিস চার্জ স্থগিত রেখে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাকে সিটি করপোরেশনের বাইরে রাখার দাবি জানিয়েছেন।

আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, এমপি এবং মহাসচিব ক্যাপ্টেন (অব.) শেখ এহসান রেজা ৬ মে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তারা উল্লেখ করেন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্লট ও ফ্ল্যাট মালিকদের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সোসাইটি নিরলসভাবে কাজ করছে এবং তারা সিটি করপোরেশনের আওতায় যেতে চান না। এ বিষয়ে সম্মিলিত সম্মতিপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

বাসিন্দারা জানান, এই এলাকা সিটি করপোরেশনের আওতায় গেলে এখানকার শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট হয়ে যাবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং বহিরাগত সন্ত্রাসী, হকার, চাঁদাবাজ ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যেতে পারে।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রতিটি প্রবেশপথে নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেন। রয়েছে বিপুলসংখ্যক সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি। এ কারণে অপরাধীদের প্রবেশ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

বাসিন্দাদের ভাষ্য, “আমরা দিনে যেমন নিরাপদ ও আধুনিক সেবার মধ্যে থাকি, তেমনি রাতে আরও নিশ্চিন্ত থাকি। এ ধরনের নিরাপত্তাবেষ্টিত আবাসিক এলাকা বাংলাদেশে বিরল। কিন্তু এটি সিটি করপোরেশনের আওতায় এলে বর্তমান সেবাগুলো বজায় রাখা সম্ভব হবে না; বরং ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং অপরাধ বাড়তে পারে।”

তারা আরও জানান, বর্তমানে এলাকাটি হকার, চায়ের দোকান ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানমুক্ত, ফলে এটি পরিচ্ছন্ন ও কোলাহলমুক্ত। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সন্ত্রাসী বা মাদকসেবীদের প্রবেশও নিয়ন্ত্রিত। তবে সিটি করপোরেশনের আওতায় এলে এই নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার রাস্তাঘাট নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, ফুটপাত, ড্রেন পরিষ্কার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতি, পানি সরবরাহ, মশা নিধন, বিদ্যুৎ সংযোগসহ সব উন্নয়নমূলক কাজ বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালনা করে থাকে। এ জন্য তারা সিটি করপোরেশনের কোনো আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করে না।

এছাড়া, ২০৩৪ সালের মধ্যে প্রকল্পের সব উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করার অনুমতিও সোসাইটির রয়েছে। এর আগেও আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা সম্মিলিতভাবে সিটি করপোরেশনের আওতায় না যাওয়ার পক্ষে মতামত জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখানে দেশসেরা হাসপাতাল, একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্পোর্টস সিটি, গল্ফ ক্লাব, শপিংমল, রেস্টুরেন্ট, সুপারশপ এবং কমিউনিটি পার্কসহ উন্নত নাগরিক সুবিধা বিদ্যমান। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও বাসিন্দা এখানে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন করছেন।

এদিকে, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স ও সার্ভিস চার্জ প্রদানের জন্য চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, এটি তাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি আশা প্রকাশ করে জানিয়েছে, প্রকল্পটি সিটি করপোরেশনের আওতায় আসার পূর্ব পর্যন্ত সকল ধরনের হোল্ডিং ট্যাক্স ও সার্ভিস চার্জ স্থগিত রাখা উচিত এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে এ থেকে অব্যাহতি দেওয়া প্রয়োজন।

বাসিন্দাদের পক্ষে সোসাইটি আশা করে, বিষয়টি মানবিক ও বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতার বাইরে রাখা হবে।

আর্কাইভ