• ঢাকা শনিবার
    ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান

শহীদদের সঙ্গে বেইমানি করব না, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করেই ছাড়ব

প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ০৭:১১ পিএম

শহীদদের সঙ্গে বেইমানি করব না, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করেই ছাড়ব

সিলেট ব্যুরো

বিএনপি সেই ফ্যাসিবাদী সরকারের পথে নির্লজ্জভাবে হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করেই ছাড়ব।

যদি ফ্যাসিবাদ আপনারা কায়েম করেন, তবে জনগণ আপনাদেরকেও ছাড়বে না। আমরা আমাদের শহীদদের সঙ্গে বেইমানি করব না।

জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে আমরা গাদ্দারি করতে পারব না। তাই ঢাকার ডাক আসবে, আপনারা থাকবেন।

দেশ থেকে দুর্নীতিবাজ, দুঃশাসন দূর না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। এই লড়াই হবে ঐক্যবদ্ধ লড়াই।

শনিবার (২৫ জুলাই) সিলেট আলিয়া মাদরাসা ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যজোট আয়োজিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যায় জড়িত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সারা বাংলাদেশ ঘুরেছি। সর্বত্র মানুষের একটাই দাবি– গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের কাছে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়েছিলাম। জনগণ সেই ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। এখন জনগণ সেই রায়ের বাস্তবায়ন দেখতে চায়।

তিনি বলেন, সিলেটের রাস্তার দুর্ভোগ। দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের কাজ চলছে, কিন্তু এখনো শেষ হচ্ছে না। আমরা জাতীয় সংসদে বলেছি, সমুদ্রের ঢেউ অনুভব করতে বঙ্গোপসাগরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই; ঢাকা থেকে সিলেটের সড়কে একবার চললেই বাস্তবতা বোঝা যায়। আমরা চাই অবিলম্বে সিলেটের এই সড়কের কাজ সম্পন্ন করে জনগণকে স্বস্তি দেওয়া হোক।

জামায়াত আমির বলেন, সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এখানে একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠার। বর্তমান কলেজটিকে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হোক। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েরও কার্যক্রম এখনো নামমাত্র। একটি ভবন ও একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বাইরে তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না। অবিলম্বে এটিকে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দেওয়া হোক।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সিলেটবাসীর আরও অনেক দাবি রয়েছে। আমরা জানি না, যাদের কাছে এই দাবিগুলো তুলে ধরছি, তারা এগুলো বাস্তবায়ন করবেন কি না। তবে যেহেতু তারা সরকারে আছেন, তাই জনগণের পক্ষ থেকে দাবিগুলো তুলে ধরলাম।

তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা যদি কোনো দিন এই এগারো দলকে দেশ পরিচালনার সুযোগ দেন, ইনশাআল্লাহ সিলেটবাসীর ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশ থেকে দেশে তরুণরা জেগে উঠছে। এটা জুলাই বিপ্লবের ধারাবাহিকতা। এটা দেশ থেকে দেশে ছড়িয়ে যাচ্ছে। সব দেশের সরকার দাবি মেনে নিচ্ছে। আর আমাদের সরকার ভুলপথে হাঁটছে। আমরা মনে করেছিলাম, এই সরকার তরুণদের পথে হাঁটবে। তা না করে উল্টো হাঁটছে। যেখানে ভারতের সরকার জনতার রায় মেনে নিয়েছে। যদি তারা জুলাই বিপ্লবকে ভুলে যায়, তবে দেশে সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক সংস্কার হবে না।

তিনি বলেন, দলীয়করণের কারণে নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে না। এই সমাবেশের পর ঢাকার সমাবেশের মাধ্যমে বৃহত্তর আন্দোলন হবে। এই সরকারকে আর সহযোগিতা করা সম্ভব হবে না। এই সরকার গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে পাঁচ বছর পার করতে পারবে না।

জেলা ও মহানগর জামায়াত ও এনসিপির নেতৃবৃন্দের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, জাগপার সভাপতি রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান প্রমুখ।

রাজনীতি সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ