• ঢাকা মঙ্গলবার
    ১৬ জুলাই, ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১

হারলো দক্ষিণ আফ্রিকা, জিতলেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০২২, ০৩:৫৯ পিএম

হারলো দক্ষিণ আফ্রিকা, জিতলেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

হারলো দক্ষিণ আফ্রিকা, জিতলেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ রাউন্ডে গ্রুপ-২ থেকে নিজেদের প্রথম চার ম্যাচ শেষে সেমিফাইনালের দৌড়ে এগিয়ে ছিল ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। আর নানা সমীকরণে আশা টিকে ছিল বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের সেমিফাইনালে ওঠার আশা। তবে সব সমীকরণের আগে নিজেদের শেষ ম্যাচে ভারত বা দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিজেদের শেষ ম্যাচে হারতে হতো। দক্ষিণ আফ্রিকা হারলে হিসেব ছিল সবচেয়ে সহজ। হলোও তাই। চোকার হিসেবে খ্যাত প্রোট্রিয়ারা নিজেদের শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের কাছে হারলো ১৩ রানে।

এর ফলে বাংলাদেশ পাকিস্তানের মধ্যকার খেলাটি এখন অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনাল। যে জিতবে সে যাবে সেমিফাইনালে। আর এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত হয়ে গেলো ভারতের সেমিফাইনাল।

রোববার (৬ নভেম্বর) অ্যাডিলেড ওভালে আগে ব্যাট করে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৫৮ রান করেছিল নেদারল্যান্ডস। জবাবে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪৫ রান করতেই পেরেছে প্রোটিয়ার।

টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা নিয়েছিলেন ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত। দুই ডাচ ওপেনার স্টেফান মাইবার্গ আর ম্যাক্স ওডাউড মিলে শুরুটা দুর্দান্তই করেছিলেন। পাওয়ারপ্লের ছয় ওভারে তুলে ফেলেছিলেন ৪৮ রান। মাইবার্গ আর ওডাউডের এই জুটি থামে ৫৮ রানে।

এরপরই টম কুপারের তোপের মুখে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২টি করে চার আর ছক্কায় ১৯ বলে ৩৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি, তাতে ডাচ ইনিংস পায় বড় রানের দিশা। দলীয় ৯৭ রানে ওডাউড ফেরেন ৩১ বলে ২৯ রান করে, ১১২ রানে ফেরেন কুপারও।

তার বিদায়ের পর আবারও গতি হারিয়েছিল ডাচরা। ১৫তম ওভারে কুপার ফেরার পরের দুই ওভারে দলটি রান তোলে মোটে ১১। তখন মনে হচ্ছিল, রানটা বুঝি ১৪০ ও ছোঁবে না ডাচদের।

৭ বলে ১ রান করা বাস ডি লিডার বিদায় নেন ইনিংসের ১৮তম ওভারে। এরপর থেকে শেষ পর্যন্ত গল্পটা কেবলই কলিন অ্যাকারম্যান আর অধিনায়ক স্কট অ্যাডওয়ার্ডসের। শেষ ১৭ বলে দুজন তুলেছেন ৩৫ রান। অ্যাকারম্যান ৩ চার আর দুই ছক্কায় ২৫ বলে ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন, আর অ্যাডওয়ার্ডস দুই চারে ৭ বলে করেন ১২ রান। তাতেই ডাচরা পেয়ে যায় ১৫৮ রানের লড়াকু পুঁজি। সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে ১৫৯ করতে হতো দক্ষিণ আফ্রিকাকে।

প্রোটিয়াদের হয়ে ২৭ রানে দুটি উইকেট নেন কেশব মহারাজ। একটি করে নেন আইনরিখ নর্কিয়া ও এইডেন মারক্রাম।  

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুই ওপেনার কুইন্টন ডি কক আর টেম্বা বাভুমাকে খুইয়ে বসে পাওয়ারপ্লেতেই। এরপরেও সেই একই দৃশ্যের অবতারণা দেখেছে অ্যাডিলেড ওভাল। থিতু হয়ে উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে এসেছেন সবাই। রাইলি রুশো, এইডেন মার্করাম, ডেভিড মিলারদের কেউই ২৫ এর বেশি রান করতে পারেননি। দলীয় ১২০ রানে যখন সপ্তম ব্যাটার হিসেবে হাইনরিখ ক্লাসেন বিদায় নিচ্ছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার পরাজয়টা নিশ্চিত হয়ে গেছে মূলত তখনই। 

তবু একটা মিরাকলের আশা ছিল তখনও। সেই কাজটা করতে পারেননি কেউ। 

প্রোটিয়াদের সর্বনাশ করেছেন ব্র্যান্ডন গ্লোভার। ৯ রানে এই পেসার ৩ উইকেট নিয়েছেন। ২৫ রানে দুটি নেন বাস ডি লিড। ২০ রানে দুটি নেন ফ্রেড ক্লাসেনও। ৩৩ রানে একটি নিয়েছেন পল ফন মিকারেন।

ম্যাচসেরা হয়েছেন নেদারল্যান্ডসের কলিন অ্যাকারম্যান।  

এআরআই

আর্কাইভ