• ঢাকা সোমবার
    ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২

শহর ঘুরে দেখার শখ সামলাতে পারছিলাম না

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম

শহর ঘুরে দেখার শখ সামলাতে পারছিলাম না

মু আ কুদ্দুস

আমি আমার মেয়ের বাসায় উঠেছি। সিডনির একটি ছিমছাম এলাকা,ব্যাংকস টাউনে।শহর ঘুরে দেখার শখ সামলাতে পারছিলাম না।একা বাইরে যেতে সাহস হয় না।অচেনা অজানা পথে হারাবার ভয়। হাজার পথ,চার লেন। কোথাও একদিকে কোথাও ওয়ান ওয়ে। নীল লাল ও হলুদ সিগনাল।যানবান কিংবা মানুষ নিয়ম মেনে চলে। রাস্তায় ময়লা নেই - কেউ ফেলেন না। সরকারের সাথে সাথে স্থানীয় রাও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এখানে এসে মনে হলো কবি আ ন ম বজলুর রশীদ একটি কবিতার দুটি লাইন অষ্ট্রেলিয়া অচল।লাইন দুটো হলো, "সেদিন আসিবে কবে মাটির মানুষ সোনার সূর্য হবে " । এখানে এই কবিতার মিল খুঁজে পাইনি।কারন, এখানে সবাই সোনার মানুষ। নিজের কাজ নিজে সম্পন্ন করে।এছাড়া রাস্তা পারাপারের সময় সাইন করে ওপারে যেতে হয়,নইলে ছোট বড় যে কোনো জরিমানা।যাক, আমার মেয়ে জামাই আমাকে না জানিয়ে গাড়িতে তুলে নেয়। কোথায় যাচ্ছি - জানি না। প্রায় ৩৯ মিনিটে পৌঁছে গেলাম লা পেরুজ। সিডনির একটি ঐতিহাসিক শহরতলী।বোটানি বে‍‍`র উত্তর প্রান্তে। ওখানে গিয়ে জানলাম,লা পেরুজ নাম করণ হয়েছে ফরাসি অভিনেত্রী জিন ফ্রাঁসোয়া দ্য গোলাপের নামে। তিনি লা পেরুজ এসেছিলেন ১৭৮৮ সালে। শৈবাল আর নীল জলরাশি প্রশান্ত মহাসাগরের তটে আঁছড়ে পড়ছে। অসংখ্য মানুষ শুয়ে শেষ বিকেলের রোদ দেখছে।এর পাশেই রয়েছে লা পেরুজ মিউজিয়াম এবং হেনরি হেড ওয়াকিং ট্রাস্ট,বে আইল্যান্ড কোর্ট। এখানে বড় বড় প্রবাল সাগরের জলে মাতাল নৃত্য করছে সারাক্ষণ। ছোট ছোট পোশাকে সূর্য স্নান করছে একদল কিশোরী।এখানে এসে দেখলাম,এক কিলোমিটার দূরে সূর্য ডুবে গেলো। আকাশ হয়ে গেলো দিনের মতো উজ্জ্বল। প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট ছোট ঢেউ অন্ধকারে মিলিয়ে গেলো। অদ্ভুত এক অনুভূতি আমাকে জড়িয়ে নিলো।
আমরা যখন আসছিলাম তখন রাস্তার পাশে বিমান বন্দর।বিশাল সড়কের দু‍‍`পাশে পাতা ভর্তি সবুজ রঙের গাছ। সূর্য তখন সাগরে তলিয়ে গেছে কিন্তু দিন শেষ হয়নি। 

আমরা ফিরছি বাসায়। রাস্তায় জট নেই। মানুষ নেই। সড়কের বাতি জ্বলছে।আসার সময় কোনো ট্রাফিক পুলিশ চোখে পড়েনি।আধো আলো আধো অন্ধকার হীম বাতাসে ফিরলাম,তখন সন্ধ্যা ৮ টা।

দুই ফেব্রুয়ারি/দুই হাজার ছাব্বিশ।

আর্কাইভ