প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম
ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি নিহত হওয়ার পর বুধবার (১৮ মার্চ) তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিশোধের অঙ্গীকার করে ইসরাইলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান।
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের বাণিজ্যিক কেন্দ্র তেল আবিবের কাছে একটি ভবনে আঘাত হানলে দুজন নিহত হন। এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ছোড়া রকেট ও ড্রোন প্রতিহত করেছে।
লেবাননেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর জড়িত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইসরাইল রাজধানী বৈরুতের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে, যেখানে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে।
ইরানের ফার্স ও তাসনিম বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, লারিজানি এবং বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলাইমানির জানাজা তেহরানের সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার তাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যে সংঘাত শুরু হয়েছে, তার মধ্যে লারিজানি হচ্ছেন সবচেয়ে প্রভাবশালী নিহত ব্যক্তিত্বদের একজন।
ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিবকে হত্যার জবাব হবে দৃঢ় ও দুঃখজনক।’
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেছেন, এই যুদ্ধের বৈশ্বিক প্রভাব ‘এখনো কেবল শুরু’ এবং এর প্রভাব সবার ওপর পড়বে। হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে পৌঁছেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে ইরানের উপকূলবর্তী ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে ভারী বোমা হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্ট্রাল কমান্ড।
অন্যদিকে, ইসরাইল জানিয়েছে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনিকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আবারও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস বলেছে, লারিজানির মৃত্যু আরও বড় আকারের প্রতিশোধমূলক হামলার সূচনা করবে এবং এটি ‘জাতীয় জাগরণের উৎস’ হয়ে উঠবে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ইসরাইলের এই হত্যাকাণ্ডকে ‘যুদ্ধের স্বাভাবিক আইনের বাইরে অবৈধ কার্যক্রম’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।