প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
আজ ১৮ মার্চ রোজার বিদায় লগ্ন। সিডনিতে আসার আমার প্রায় দু`মাস হতে যাচ্ছে।তেমন দর্শনীয় স্থান দেখা হয়নি।ঈদের পর বেরোনোর ইচ্ছে রয়েছে। তারপরও সিডনির কিছু এলাকা কারণে অকারণে যাওয়া হচ্ছে। আজ জামাই পৃথুল আমাকে চুল কাটাতে নিয়ে যাবে,তাও আবার বাসে। ভাবলাম বেশতো,রেলে বেরিয়েছি এখন বাসটা দেখি। দুপুর দেড়টায়।আমি, আমার স্ত্রী পারভিন,নানু ভাই আয়জান তাজওয়ার।বাসা থেকে দশ মিনিট হেঁটে পৌঁছে গেলাম ব্যাংকস টাউন বাস ষ্টেশনে। এখানে বাসের অপেক্ষায় থাকলাম কিছুক্ষণ।

এরই মধ্যে,"সাউথ ওয়েষ্ট" বাস এসে থামলো।এসি বাস। আসন সংখ্যা চল্লিশ। ভিতরে উঠে দেখলাম সব আসন ফাঁকা। ছিটেফোঁটা দু`একজন বসে আছে। আমরাও যুত সই আসনে বসে পড়লাম। ব্যাংকস টাউন থেকে লাকেম্বা বেশি দূর নয়।বাসটা অত্যাধুনিক প্রযুক্তির।কোন হেলপার নেই।মাত্র একজন চালক।
আমি পৃথুলকে বললাম বাস ভাড়াটা কতো?
সে বললো বাসে ভাড়া লাগে না। কারণ অষ্ট্রেলিয়া সরকারের বাস। জনগনের জন্য বাস ফ্রি।তবে বেসরকারি কোম্পানীর বাস আছে।ওই সব বাস নামে মাত্র ভাড়ায় যাত্রি বহন করে। শহরে সরকারি এমন বাস পঞ্চাশ ভাগ হবে। ওঠার ঝামেলা নেই।সিট নিয়ে কাড়াকাড়ি নেই। ঠেলাঠেলিও নেই।
বিকাল সাড়ে চারটায়।সব ইস্কুল ছুটি হয়েছে।ছাত্র/ছাত্রিরা বাসের অপেক্ষায়।পৃথুল আমাদের একখানে বসিয়ে রাখলো।কারন,ছাত্র ছাত্রিরা বাসে উঠবে।ওরা গেলে আমরা অন্য বাসে যাবো। বেশি সময় লাগেনি, অল্প সময়ের মধ্যে আর একটি বাস এসে থামলো।আমরা যথারীতি বাসে ওঠে বসলাম।এতো সুন্দর নিয়ম, অষ্ট্রেলিয়া সরকার জনগনের জন্য করে রেখেছেন। কোনো বিষয়ে মানুষের অভিযোগ করার সুযোগ নেই।

সরকারি বাসে যে কেউ অনায়াসে শহর ঘুরে দেখতে পারেন, কোনো টাকা লাগবেনা। এ দেশের মানুষের জন্য সরকার সব রকম সুবিধা দিয়েছে। সেই সাথে অষ্ট্রেলিয়ানরা সরকার কে সব দিক থেকেই সহযোগিতা করে।তা না হলে অষ্ট্রেলিয়া এতো সুন্দর হতো না। এখানে আকাশ নীল।সাদা রোদের ছায়া। সাগরের ঠান্ডা হাওয়া বয়ে যায় সারাক্ষণ। গভীর রাতে সব তারা ঝিলমিল করে।
দিন যেনো শেষ হয় না এখানে।কী অপরূপ সৌন্দর্যের দেশ অষ্ট্রেলিয়া। ভাবতে ভাবতেই পৌঁছে গেলাম ব্যাংকস টাউন বাস ষ্টেশনে।
আঠারো মার্চ/দুই হাজার ছাব্বিশ।