প্রকাশিত: এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
মহা উৎসবে অনুষ্ঠিত হলো বাংলা বর্ষবরণ। সিডনির উইলি পার্কে ছোট্ট একটা বাংলাদেশ দেখলাম এখানে। শনিবার এই উৎসবের আয়োজন করেছে সিডনিতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা। খাবারের দোকানের সাথে শতাধিক স্টল ছিল এখানে। নিজের হাতেই তৈরি করা খাবার।
সব ধরনের বাহারি খাবারের সাথে শাড়ি, খেলনা, চড়কি, ফুলসহ সবই ছিল। নকশিকাঁথার শাড়ি, আলপনা আঁকা—বাঙালি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে গোটা মাঠকে সাজানো হয়েছে। বিশাল এলাকাজুড়ে রাখা হয় গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা। মেলায় যত মানুষ, তত গাড়ি।
সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে আমরা মেলায় প্রবেশ করলাম। আমার মেয়ের আবৃত্তির নেতৃত্বে আমি, তার মা পারভিন সুলতানা, নানু ভাই আয়জান তাজওয়ার এবং আর্ষমান তাফসির, সঙ্গে জামাই পৃথুল।
কয়েক দিন হলো এখানকার আবহাওয়ার পরিবর্তন এসেছে। রাত বেড়ে গেছে, দিন ছোট হয়ে এসেছে। দিনে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর রাত হলে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে আসছে। তবে দিন-রাত ঠান্ডা হাওয়া চলমান। সেই কারণে শীতের কাপড় নিয়ে আমরা মেলায় এসেছি।
এখানে আমার সাথে জানা-শোনা লোক তেমন নেই। তবে আমার মেয়ে ও জামাইয়ের সাথে পরিচিত অনেকেই আছেন। তাদের আতিথেয়তায় মুগ্ধ হলাম আমি। সবাই আমাকে আপন করে নিল। এমন সময় ছুটে এলেন এলেন সাহেব। তিনি কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি তার ক্যামেরায় আমাদের ছবি বন্দি করলেন। এ সময় মেয়ের অনেক পরিচিতদের সঙ্গে দেখা হয়, কথা হয়। এর মধ্যেই এলেন রহমত সাহেব। তিনি আমাকে অনেকের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। কথা হয় বরিশালের এক বড় ভাইয়ের সাথে। তিনি বললেন, মানবজমিন পত্রিকায় আমার ভাগ্নে ছিলেন—নাম শাহনেওয়াজ বাবলু। বললাম, চিনি তাকে।
আমার নানু ভাই আড়াই মাসের শিশু। তাকে নিয়ে রাত করা তখন কষ্টকর হয়ে উঠেছিল। তাই বাসায় ফিরতে মেলা ছাড়লাম। কিন্তু তখনও মেলার মঞ্চে চলছিল দেশাত্মবোধক গান ও নৃত্য।
সিডনিতে নববর্ষ হয়, একুশে বইমেলা হয়, স্বাধীনতা এবং বিজয়ের মাস পালিত হয়। সবাই বাংলাদেশকে এখানে প্রাণ দিয়ে লালন করেন। আমি এখানে এসেই দেখলাম দেশের মানুষের দেশপ্রেম। যখন মাঠের বাইরে গাড়ি পার্কিংয়ের কাছে এলাম, তখন মঞ্চে পরিবেশিত হচ্ছিল—
“ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা…”