• ঢাকা বৃহস্পতিবার
    ১১ জুন, ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাউফলে হিন্দু পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম

বাউফলে হিন্দু পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার একটি হিন্দু পরিবারকে চাঁদা দাবি, মিথ্যা মামলার হুমকি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে মোসা. সাথী আক্তার (২৮) নামে এক নারীর বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কালাইয়া সিনেমা হল রোড এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে কালাইয়া গ্রামের বাসিন্দা মধুসূদন দাসের ছেলে আশিষ দাস লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সাথী আক্তার দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করে আসছেন। পাশাপাশি অর্থ দাবি এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন।

আশিষ দাস দাবি করেন, ২০২৩ সালে তার বড় ভাই উত্তম দাসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেছিলেন সাথী আক্তার। পরবর্তীতে আদালতে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারায় মামলাটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আর হয়রানি করবেন না মর্মে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে অঙ্গীকারও করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত ৫ জুন রাতে আশিষ দাসের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সাথী আক্তার অর্থ দাবি করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। আশিষ দাস আরও বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০২৪ সালে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলার বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে এবং তাদের পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে একটি পক্ষ সাথী আক্তারকে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে মধুসূদন দাস বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। অতীতেও বিভিন্ন কারণে তার পরিবার হয়রানির শিকার হয়েছে। বর্তমানে নতুন করে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, আমাদের পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। বারবার হুমকি ও অর্থ দাবির কারণে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাথী আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, উত্তম দাসের সঙ্গে আমার দীর্ঘ ১৪ বছরের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্ক চলাকালে তিনি আমার জন্য খরচ করেছেন। এখন আর কোনো সহযোগিতা করছেন না। আমি বর্তমানে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি।

এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দেশজুড়ে সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ