• ঢাকা সোমবার
    ০৮ জুন, ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সিটি নিউজ ঢাকার বিশ্লেষণ

বাড়ল তেলের দাম, কমল স্বর্ণের: মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা ও যুক্তরাষ্ট্রের সুদনীতির দ্বিমুখী প্রভাব

প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ১১:৫২ এএম

বাড়ল তেলের দাম, কমল স্বর্ণের: মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা ও যুক্তরাষ্ট্রের সুদনীতির দ্বিমুখী প্রভাব

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা

আন্তর্জাতিক বাজারে একদিকে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, অন্যদিকে স্বর্ণের দাম কমেছে। সাধারণত বৈশ্বিক অস্থিরতা বাড়লে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এবার মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সুদহার বৃদ্ধির প্রভাব বাজারে ভিন্ন চিত্র তৈরি করেছে।

সোমবার (৮ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলারের বেশি বেড়ে ৯৬ ডলারের ওপরে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দামও ৯৩ ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে। ইসরাইল-ইরান উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাজারকে প্রভাবিত করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও ওপেক প্লাস উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে, তবুও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব খুব সীমিত হতে পারে।

অন্যদিকে, একই সময়ে স্বর্ণের বাজারে দেখা গেছে উল্টো প্রবণতা। স্পট গোল্ডের দাম কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩১৩ ডলারে নেমে এসেছে। মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারও নিম্নমুখী অবস্থানে রয়েছে।

এর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য কঠোর মুদ্রানীতি। সাম্প্রতিক শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফেড চলতি বছরের শেষ দিকে সুদের হার বাড়াতে পারে। বর্তমানে বাজারে ডিসেম্বরের মধ্যে সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৭২ শতাংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সুদহার বৃদ্ধি স্বর্ণের জন্য নেতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ স্বর্ণ কোনো সুদ বা লভ্যাংশ দেয় না। ফলে ট্রেজারি বন্ডের মতো সুদভিত্তিক বিনিয়োগের রিটার্ন বাড়লে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ থেকে সরে যেতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মার্কিন ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ফলনও সম্প্রতি দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা স্বর্ণের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দুই ধরনের ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে তেলের দাম বাড়াচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করছে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সুদহার বৃদ্ধি স্বর্ণসহ অন্যান্য ঝুঁকিমুক্ত সম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

ফলে বিনিয়োগকারীরা এখন একদিকে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে কঠোর মুদ্রানীতির মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছেন। আগামী সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত সংকেত আন্তর্জাতিক পণ্যবাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় তেলের দাম বাড়ছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার বৃদ্ধির আশঙ্কায় স্বর্ণের বাজারে দেখা যাচ্ছে চাপ। অর্থাৎ, একই বৈশ্বিক সংকট দুই পণ্যের বাজারে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।


 

আর্কাইভ