• ঢাকা বুধবার
    ০৮ জুলাই, ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম

আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে এবং এসব ব্যাংকের আমানতকারীরা তাদের জমানো টাকা সুদসহ ফেরত পাবেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এক্ষেত্রে গ্রাহকদের আমানতের কোনো অংশ কর্তন বা ‘হেয়ার কাট’ করা হবে না বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা জানান। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানু এই নোটিশটি উত্থাপন করেন।

সংসদে অর্থমন্ত্রী জানান, আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। এই আইনের আওতায় এক্সপোর্ট ইমপোর্ট (এক্সিম) ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে।

পরিস্থিতিকে ‘হৃদয়বিদারক’ আখ্যা দিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমানতকারীদের আশ্বস্ত করতে চাই, তারা সুদসহ তাদের টাকা ফেরত পাবেন। যেহেতু সুদসহ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে, তাই ‘হেয়ার কাট’-এর কোনো প্রশ্নই আসে না। তবে ব্যাংকগুলো বর্তমানে লোকসানে থাকায় পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগবে।’

আমানতকারীদের আইনি সুরক্ষার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমানত সুরক্ষা আইনের আওতায় সুরক্ষার সীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ব্যাংক খাতের অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা তদন্তে বিশেষ ফরেনসিক অডিট পরিচালনা করা হচ্ছে। ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ৫৭ ধারা অনুযায়ী দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দেশি-বিদেশি সম্পত্তি ও তহবিল জব্দ, নিলাম বা বিক্রয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের অর্থ পুনরুদ্ধার করা হবে।

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে সরকারের নেওয়া বিশেষ উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, ‘পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে ‘নো উইন, নো ফি’ (অর্থ উদ্ধার হলেই কেবল ফি প্রদান) ভিত্তিতে নয়টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে অগ্রাধিকারভিত্তিতে ১১টি মামলার মধ্যে ছয়টি বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দেওয়ানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এই তালিকায় রয়েছে—এস আলম, বেক্সিমকো, সিকদার গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, ওরিয়েন্ট গ্রুপ এবং সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী সংশ্লিষ্ট গ্রুপ।’
এর আগে নোটিশটি উত্থাপনকালে সরকারি দলের সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানু বলেন, ‘সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংকের প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারী বর্তমানে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তাদের আমানত থেকে কোনোভাবেই ‘হেয়ার কাট’ করা যাবে না।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘যারা জনগণের টাকা লুট করেছে, তাদের পৃথিবীর যে প্রান্ত থেকেই হোক ফিরিয়ে এনে ‘ডিম থেরাপি’ দিয়ে টাকা আদায় করতে হবে।’

গ্রাহকদের সংকটের চিত্র তুলে ধরে রেহেনা আক্তার রানু বলেন, ‘ব্যাংকে রাখা টাকা মানুষের বিলাসিতার জন্য নয়। এটা একজন বাবার মেয়ের বিয়ের স্বপ্ন, মায়ের চিকিৎসার শেষ ভরসা, শিক্ষার্থীর টিউশন ফি কিংবা কারো পেনশনের সঞ্চয়। আজ টাকা তুলতে না পেরে অনেকে চিকিৎসা করাতে পারছেন না, টাকার অভাবে মারাও যাচ্ছেন। অথচ লুটেরা মালিক পক্ষ বিদেশে পালিয়ে আরামে জীবনযাপন করছে।’

তিনি এই সমস্ত ‘ব্যাংকখেকো’ মালিকদের সমস্ত সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে দ্রুততম সময়ে গ্রাহকদের টাকা তাদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রীর প্রতি জোর দাবি জানান।

আর্কাইভ