প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম
বৈশ্বিক অস্থিরতা আজ বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ ও সরবরাহ শৃঙ্খলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতও চাপের মুখে পড়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই বাস্তবতার প্রতিফলন রয়েছে।
তবে বৈশ্বিক সংকটকে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখলে দেশের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাগুলো আড়াল হয়ে যায়। রপ্তানি বাড়াতে হলে শুধু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উন্নতির অপেক্ষায় থাকলে চলবে না; বরং উৎপাদন ব্যয় কমানো, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা, আধুনিক প্যাকেজিং, কোল্ড চেইন এবং দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।
বাজার ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নজরদারির যে উদ্যোগের কথা সরকার বলছে, তা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী। কিন্তু প্রযুক্তি তখনই কার্যকর হবে, যখন এর সঙ্গে কঠোর আইন প্রয়োগ, নিয়মিত বাজার তদারকি এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধুমাত্র প্রযুক্তিনির্ভর ঘোষণা দিয়ে বাজারে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো সম্ভব নয়।
সিলেটকে শাকসবজি রপ্তানির প্রধান হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও ইতিবাচক। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আধুনিক প্যাকেজিং, সংরক্ষণাগার, আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেশন এবং সহজ রপ্তানি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। কৃষক যেন ন্যায্যমূল্য পান এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারেন—সেই পরিবেশ তৈরি করাই হবে সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।
বৈশ্বিক পরিস্থিতি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে নয়, কিন্তু দেশের নীতিনির্ধারণ, বাজার ব্যবস্থাপনা ও শিল্পবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্পূর্ণ আমাদের নিজেদের দায়িত্ব। এখন সময় শুধু আশ্বাস দেওয়ার নয়, দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার। কারণ শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে ওঠে সুশাসন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর—শুধু অনুকূল বৈশ্বিক পরিস্থিতির অপেক্ষায় নয়।