প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ১২:০১ এএম
রণধীর জয়সওয়াল। ছবি: ইন্টারনেট
তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনায় বাংলাদেশকে চীনের কারিগরি ও ব্যাপক সহযোগিতার আশ্বাসের পর নদীটির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ঢাকার কাছে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বেইজিং সফরের পর নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হলো।
শুক্রবার (৩ জুলাই) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ভারতের সহযোগিতা পারস্পরিক সম্মত রোডম্যাপ অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং তা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়।
তিনি জানান, তিস্তা নদী প্রকল্প নিয়ে ভারতের নিজস্ব অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি আগেই বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে সাম্প্রতিক সব অগ্রগতি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই ভারতের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় বেইজিং ‘তিস্তা নদী ব্যাপক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ (টিসিআরএমপি) বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহযোগিতার আশ্বাস দেয়। চীন প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এদিকে, ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় নয়াদিল্লি তিস্তা প্রকল্পে সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছিল। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রকল্পটি নতুন করে চীন-ভারত ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তিস্তা শুধু একটি আন্তঃসীমান্ত নদী নয়, বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নদীটি ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’-এর কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় নয়াদিল্লির জন্য এটি বিশেষ সংবেদনশীল।
বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে তিস্তা প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, নদীর নাব্যতা রক্ষা এবং উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। ১৯৯৬ সালে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি হলেও তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে চার দশকের বেশি সময় ধরে কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। ২০১১ সালে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণে তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
ভারতের দীর্ঘসূত্রতার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ তিস্তা নদীর উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা চাওয়ার পথ বেছে নেয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পাওয়ারচায়না তিস্তা নদী নিয়ে একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার চুক্তি করে।
বর্তমানে তিস্তা প্রকল্প শুধু বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশ, ভারত ও চীনের মধ্যকার আঞ্চলিক কৌশলগত সম্পর্কেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সূত্র: দ্য প্রিন্ট।