• ঢাকা বুধবার
    ০১ জুলাই, ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

নৈশভোজ বাতিলের সিদ্ধান্ত: প্রতীকী সাশ্রয়, নাকি নতুন সংস্কৃতির সূচনা?

প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম

নৈশভোজ বাতিলের সিদ্ধান্ত: প্রতীকী সাশ্রয়, নাকি নতুন সংস্কৃতির সূচনা?

সম্পাদকীয়

জাতীয় বাজেট পাসের পর রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজ দীর্ঘদিনের একটি প্রথা। কিন্তু এবার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেই আয়োজন বাতিল করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হবে। অর্থের অঙ্কটি জাতীয় বাজেটের তুলনায় খুবই সামান্য হলেও, সিদ্ধান্তটির প্রতীকী গুরুত্ব অনেক বেশি।

রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যয়সংযম কেবল অর্থ বাঁচানোর বিষয় নয়; এটি একটি নৈতিক অবস্থানও। যখন সরকার জনগণকে কর পরিশোধে উৎসাহিত করে, সরকারি ব্যয় কমানোর কথা বলে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দক্ষতা ও স্বচ্ছতার ওপর জোর দেয়, তখন রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকেও মিতব্যয়িতার উদাহরণ স্থাপন করা প্রয়োজন। নৈশভোজ বাতিলের সিদ্ধান্ত সেই বার্তাই বহন করে।

তবে একটি সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন কেবল ঘোষণায় নয়, ধারাবাহিকতায়। যদি এই ব্যয়সংযম শুধু একটি অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবেই থেকে যাবে। কিন্তু যদি সরকারি পর্যায়ে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ, বিলাসী আয়োজন, অপচয়মূলক ব্যয় এবং প্রকল্পের অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও একই কঠোরতা দেখা যায়, তাহলে এই উদ্যোগ একটি নতুন প্রশাসনিক সংস্কৃতির ভিত্তি হতে পারে।

একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতারও একটি কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্ব রয়েছে। তাই কোন ব্যয় প্রয়োজনীয় আর কোনটি অপ্রয়োজনীয়—সে বিষয়ে বাস্তবসম্মত ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। ব্যয় কমানোর নামে এমন কোনো সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত নয়, যা রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম বা প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয়ের চেয়েও বড় প্রশ্ন—রাষ্ট্র কি হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে অপচয়, দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধ করতে পারছে? যদি ছোট ব্যয়ের পাশাপাশি বড় ব্যয়েও একই ধরনের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হবে।

নৈশভোজ বাতিল নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক বার্তা। এখন সেই বার্তাকে বাস্তব রূপ দিতে হবে সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মিতব্যয়িতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। তাহলেই এই সিদ্ধান্ত কেবল ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয়ের সংবাদ হয়ে থাকবে না; বরং রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বশীলতার একটি নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।

সম্পাদকীয় সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ