প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সাম্প্রতিক এই কম্পন বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না ঘটালেও আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে—ভূমিকম্পের ঝুঁকি কোনো কাল্পনিক আশঙ্কা নয়, বরং বাস্তব ও স্থায়ী উদ্বেগের বিষয়। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভুটানের পুনাখা অঞ্চলের কাছে এবং এর কম্পন বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও চীনের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে, ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকা শহর ভূমিকম্পের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ভবন নির্মাণে বিধিমালা না মানা এবং জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা একটি মাঝারি বা বড় মাত্রার ভূমিকম্পকে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ দিতে পারে।
উদ্বেগের বিষয় হলো, ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পরও আমাদের প্রস্তুতির ঘাটতি রয়ে গেছে। অনেক মানুষ এখনো জানেন না কম্পনের সময় কী করতে হবে, কোথায় আশ্রয় নিতে হবে কিংবা কীভাবে নিরাপদে ভবন ত্যাগ করতে হবে। স্কুল, হাসপাতাল, অফিস ও আবাসিক ভবনগুলোতে নিয়মিত মহড়া এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম এখন সময়ের দাবি।
সরকারি সংস্থা, সিটি করপোরেশন, নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ নাগরিক—সবার সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলা সম্ভব নয়। ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং জনগণকে সচেতন করার কাজকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
ভূমিকম্প ঠেকানোর ক্ষমতা মানুষের নেই। কিন্তু এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সক্ষমতা অবশ্যই আছে। তাই আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সচেতনতা, প্রস্তুতি এবং দায়িত্বশীল পদক্ষেপ। রাজধানীতে অনুভূত প্রতিটি ভূমিকম্প আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা—যা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।