• ঢাকা শুক্রবার
    ১২ জুন, ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শান্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি

সম্পাদকীয়: কাঁটাতারের মাঝে নয়, বিশ্বাসের সেতুতে এগিয়ে যাক দুই দেশ

প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম

সম্পাদকীয়: কাঁটাতারের মাঝে নয়, বিশ্বাসের সেতুতে এগিয়ে যাক দুই দেশ

সম্পাদকীয়

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত শুধু একটি ভৌগোলিক বিভাজনরেখা নয়; এটি দুই দেশের দীর্ঘ ইতিহাস, সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্কেরও প্রতিফলন। তাই সীমান্তে যেকোনো উত্তেজনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা শুধু নিরাপত্তা ইস্যুই নয়, বরং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলে। এই বাস্তবতায় নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক এবং তার পরবর্তী যৌথ বিবৃতি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ, মানবপাচার, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানসহ নানা ইস্যু দুই দেশের মধ্যে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এসব সমস্যার সমাধানে কেবল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পারস্পরিক আস্থা, নিয়মিত যোগাযোগ এবং কার্যকর সহযোগিতা। দিল্লির বৈঠকে উভয় পক্ষের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং অপরাধমুক্ত সীমান্ত গঠনের অঙ্গীকার সেই লক্ষ্য পূরণের পথকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, যৌথ বিবৃতিতে সীমান্তবর্তী মানুষের নিরাপত্তা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সীমান্তে বসবাসকারী সাধারণ মানুষই যেকোনো উত্তেজনা বা সংঘাতের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। তাই সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় মানবিকতা এবং জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রশংসার দাবিদার।

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আজ বহুমাত্রিক। বাণিজ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা, যোগাযোগ অবকাঠামো, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের সম্পর্ক গভীরতর হয়েছে। এই সম্পর্কের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। কারণ সীমান্তে অবিশ্বাস বা উত্তেজনা তৈরি হলে তার নেতিবাচক প্রভাব অন্য সহযোগিতার ক্ষেত্রেও পড়তে পারে।

তবে কেবল বৈঠক বা যৌথ বিবৃতির মধ্যেই সাফল্য সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা, চোরাচালান ও মানবপাচার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই হবে প্রকৃত পরীক্ষার বিষয়। কথার সঙ্গে কাজের মিল থাকলেই এই বৈঠকের অর্জন দৃশ্যমান হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যখন সীমান্ত প্রশ্নে সংঘাত ও উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে, তখন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ এবং সহযোগিতার ধারাবাহিকতা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ হতে পারে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তার সমাধান সংঘাত নয়, আলোচনাতেই নিহিত—দিল্লির বৈঠক সেই বার্তাই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

সীমান্তে শান্তি, আস্থা ও সহযোগিতার এই অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হলে তা শুধু দুই দেশের সম্পর্ককেই নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে না, বরং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথও আরও প্রশস্ত করবে। সংলাপের এই ধারাবাহিকতাই হোক ভবিষ্যতের প্রধান শক্তি।

সম্পাদকীয় সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ