• ঢাকা রবিবার
    ৩১ মে, ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ডা. মির্জা মোঃ জিয়াউল ইসলাম

শিশু হাসপাতালের নতুন নেতৃত্ব: প্রত্যাশার নতুন দিগন্ত

প্রকাশিত: মে ৩১, ২০২৬, ১২:০৭ এএম

শিশু হাসপাতালের নতুন নেতৃত্ব: প্রত্যাশার নতুন দিগন্ত

সম্পাদকীয়

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট দেশের শিশুস্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হিসেবে অধ্যাপক ডা. মির্জা মোঃ জিয়াউল ইসলামের নিয়োগ চিকিৎসক সমাজ, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

অধ্যাপক ডা. মির্জা মোঃ জিয়াউল ইসলাম একজন অভিজ্ঞ শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, গবেষক ও দক্ষ প্রশাসক। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি পেশাগত সততা, মানবিকতা এবং রোগীকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য সহকর্মী ও রোগীদের আস্থা অর্জন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বর্তমান সময়ে একটি আধুনিক হাসপাতালের সাফল্য শুধু উন্নত অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে না; বরং নির্ভর করে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সুশাসন এবং রোগীবান্ধব সেবার ওপর। নতুন পরিচালকের কাছে সংশ্লিষ্ট সবার প্রত্যাশা—তিনি এসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও কার্যকর, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করবেন।

তবে নেতৃত্ব পরিবর্তনকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে কিছু প্রশ্ন ও মতভেদও রয়েছে। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, যোগ্যতার মূল্যায়ন এবং পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার দাবি নতুন নয়। এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হলে প্রতিষ্ঠান ও নেতৃত্ব উভয়ের প্রতি জনআস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

অনেকের মতে, অতীতে নানা ধরনের প্রভাব ও বিবেচনার আলোচনা থাকলেও অধ্যাপক ডা. মির্জা মোঃ জিয়াউল ইসলাম তাঁর সততা, ভদ্রতা, নৈতিকতা এবং পেশাদারিত্বের কারণে একটি ব্যতিক্রমী অবস্থান তৈরি করেছেন। তারা বিশ্বাস করেন, তিনি শুধু একজন প্রশাসক নন, বরং প্রতিষ্ঠানটির একজন অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবেন।

বাংলাদেশের শিশুস্বাস্থ্য খাতে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। উন্নত চিকিৎসাসেবা, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রয়োজন। অধ্যাপক ডা. মির্জা মোঃ জিয়াউল ইসলামের নেতৃত্বে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সেই লক্ষ্যে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে—এটাই সবার প্রত্যাশা।

আমরা বিশ্বাস করি, সততা, দক্ষতা ও দূরদর্শিতার সমন্বয়ে তিনি হাসপাতালটিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন এবং দেশের শিশুস্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। নতুন এই নেতৃত্বের সফলতা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং বাংলাদেশের লাখো শিশুর সুস্থ ভবিষ্যতের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

আর্কাইভ