প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম
ইসলামী ব্যাংকের বহুল আলোচিত প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও তার প্রতিষ্ঠান জেএমসি বিল্ডার্স-এর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যানসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। আদালত ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলা সংশ্লিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির শনিবার (২৫ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আগামী বুধবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছে
হাইকোর্টে দাখিল করা বিএফআইইউর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৭ সালে জেএমসি বিল্ডার্সের মনোনীত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। পরবর্তীতে তিনি ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বে বহাল ছিলেন। এ সময়ের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক থেকে ২৪টি প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ২৪টি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম ছিল জেএমসি বিল্ডার্স।
বিএফআইইউর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নেওয়া বিপুল অঙ্কের ঋণের বড় অংশ এখনও ব্যাংকে পরিশোধ করা হয়নি। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে আর্থিক অনিয়ম, ঋণ জালিয়াতি এবং অর্থ পাচারের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাইকোর্টের নির্দেশ
প্রতিবেদন পাওয়ার পর হাইকোর্ট বিষয়টি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশনার আলোকে দুদক এখন অভিযোগগুলোর সত্যতা, ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত তদন্ত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগামী বুধবার হাইকোর্টে এ-সংক্রান্ত শুনানিতে আদালত পরবর্তী নির্দেশনা দিতে পারেন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই অভিযোগ
ইসলামী ব্যাংকের আলোচিত ঋণ কেলেঙ্কারি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগগুলোর একটি। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে, একটি নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রতিষ্ঠানের নামে বিপুল পরিমাণ ঋণ বিতরণ করা হলেও তার বড় অংশ আদায় হয়নি। এতে ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
এমন প্রেক্ষাপটে দেশের সাবেক রাষ্ট্রপতির নাম একটি তদন্ত-সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উঠে আসা বিষয়টিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। তবে আদালতের নির্দেশে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা দায় নির্ধারণ হয়নি।
আইনি অবস্থান
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিএফআইইউর প্রতিবেদন তদন্তের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপরাধের দায় প্রতিষ্ঠার জন্য দুদকের তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহ এবং পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে মো. সাহাবুদ্দিন, জেএমসি বিল্ডার্স কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা হবে।
(এই প্রতিবেদনটি আদালতে দাখিল করা তথ্য ও আইনজীবীর দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন; আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।)