প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি নির্দেশমূলক একটি বিল পাস করেছে মার্কিন সিনেট। সেখানে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) ৫০-৪৮ ভোটে বিলটি পাস হয়। এর আগে, এই মাসের শুরুর দিকে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদেও (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) বিলটি পাস হয়েছিল। এর মাধ্যমে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির সদস্যদের একাংশের মধ্যে চলমান এই অজনপ্রিয় যুদ্ধ নিয়ে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ও উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠল।
এতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার প্রস্তাবটি ৫০-৪৮ ভোটে পাস হয়েছে। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে এটি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদিত হয়েছিল।
সিনেটে বর্তমানে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে রয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে চার রক্ষণশীল দলের বাইরে গিয়ে এ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। অর একজন বাদে বাকি সব ডেমোক্রেট সদস্যরা এতে সমর্থন জানান।
মার্কিন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুদ্ধসংক্রান্ত প্রস্তাব কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সফলভাবে পাস হয়েছে। যদিও এটি মূলত একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ ধারণা করা হচ্ছে, এ প্রস্তাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেটো দেবেন।
দলের বাইরে গিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়া চার চার রিপাবলিকান হলেন লুইসিয়ানার বিল কাসিডি, আলাস্কার লিসা মুরকোস্কি, মেইনের সুসান কলিন্স এবং কেনটাকির র্যান্ড পল। এছাড়া কেনটাকির মিচ ম্যাককনেল এবং পেনসিলভেনিয়ার ডেভ ম্যাককরমিক নামের দুজন রিপাবলিকান ভোট দেননি।
ডেমোক্রেট নেতা চাক শুমার বলেন, বছরের পর বছর ধরে ট্রাম্প ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি এই বিপর্যয়কর যুদ্ধের মাধ্যমে আমেরিকান জনগণের জন্য কেবল সর্বোচ্চ বিভ্রান্তি, বিশৃঙ্খলা এবং সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি বয়ে এনেছেন।
তিনি বলেন, ট্রাম্পের এই ঐতিহাসিক ভুলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। এ ঘটনা আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট পদক্ষেপ হিসেবে ইতিহাসে লেখা থাকবে।
যুদ্ধ সংক্রান্ত এ প্রস্তাবে ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতা বন্ধ করে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের অনুমোদন পেলে ট্রাম্প ইরানে সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের ওপর ‘আসন্ন কোনো হামলা’ প্রতিরোধের জন্য সীমিত সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আইডাহোর রিপাবলিকান সিনেটর জেমস রিশ বলেন, এই প্রস্তাব পাস হলে সুইজারল্যান্ডে চলমান আলোচনায় ট্রাম্পের অবস্থান দুর্বল হবে। এটি পাস হলে ইরানিরা আলোচনা ছেড়ে উঠে যাবে। তারা বলবে কংগ্রেস প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। আমরা যা খুশি করতে পারি।
এদিকে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এবং ইপসোসের মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৪ শতাংশ আমেরিকান এই যুদ্ধকে যৌক্তিক মনে করেছেন।
সূত্র: আলজাজিরা