প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ০২:০৩ পিএম
প্রকৃতির সামনে মানুষের শক্তি কতটা ক্ষুদ্র, ভেনেজুয়েলার ভয়াবহ ভূমিকম্প আবারও সেই নির্মম সত্যকে সামনে এনে দিয়েছে। এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। ইতোমধ্যে অন্তত ৩২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে, আহত হয়েছেন শত শত মানুষ। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—প্রাণহানির সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্প কেবল একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; এটি একটি মানবিক বিপর্যয়ও। ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে থাকা মানুষ, স্বজন হারানোর আর্তনাদ, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া জনপদ—এসব দৃশ্য শুধু ভেনেজুয়েলার নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য বেদনার। দুর্যোগের পর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশু, নারী ও প্রবীণরা।
এই বিপর্যয় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—দুর্যোগ প্রস্তুতি কতটা জরুরি? ভেনেজুয়েলার অনেক ভবন ভূমিকম্প সহনশীল প্রযুক্তিতে নির্মিত নয় বলে জানা গেছে। ফলে কম্পনের আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি একটি বড় শিক্ষা। শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, তা যেন নিরাপদ ও দুর্যোগ সহনশীল হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশও ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দুর্বল নির্মাণব্যবস্থা এবং ঘনবসতি আমাদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। ভেনেজুয়েলার এই ঘটনা তাই আমাদের জন্যও একটি সতর্কবার্তা। এখনই যদি কার্যকর প্রস্তুতি না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতের কোনো বড় ভূমিকম্প ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।
এ ধরনের দুর্যোগে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্বও অপরিসীম। উদ্ধারকাজ, চিকিৎসা সহায়তা এবং পুনর্বাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের এগিয়ে আসা মানবতার দাবি। রাজনৈতিক বিভাজন কিংবা ভৌগোলিক দূরত্বের ঊর্ধ্বে উঠে বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সভ্যতার পরিচয়।
আজ ভেনেজুয়েলার মানুষ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বেঁচে থাকার লড়াই করছেন। তাদের কান্না, তাদের অসহায়ত্ব এবং তাদের পুনর্গঠনের সংগ্রাম আমাদের মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতির কাছে আমরা সবাই সমান। তাই শুধু সহানুভূতি নয়, দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রস্তুতিই হতে পারে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার একমাত্র পথ।