প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
ডিজিটাল যুগে যুদ্ধের সংজ্ঞা বদলে গেছে। এক সময় একটি দেশের নিরাপত্তার প্রধান প্রতীক ছিল তার সীমান্ত। আজ সেই ধারণা পাল্টে গেছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডার, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, এমনকি গণমাধ্যমও এখন সাইবার জগতের ওপর নির্ভরশীল। ফলে শত্রু সবসময় সীমান্ত পেরিয়ে আসে না; অনেক সময় একটি কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক থেকেই রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বড় হুমকির মুখে পড়তে পারে।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের বক্তব্য—‘হাজার মাইলের সীমান্ত পাহারার চেয়েও সাইবার নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ’—কেবল একটি রাজনৈতিক মন্তব্য নয়; এটি বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রতিফলন। বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলা, তথ্য চুরি, র্যানসমওয়্যার, ভুয়া তথ্য এবং বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা এখন জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। সরকারি তথ্যভান্ডার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ব্যাংকিং, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা যত বেশি ডিজিটাল হচ্ছে, ততই বাড়ছে সাইবার ঝুঁকি। শুধু প্রযুক্তিগত সুরক্ষা নয়, তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা এবং গুজব প্রতিরোধও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপপ্রচার, ভুয়া ছবি, বিভ্রান্তিকর ভিডিও ও গুজব সামাজিক অস্থিরতা তৈরির ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। তাই জনগণের কাছে দ্রুত, নির্ভুল ও যাচাইকৃত তথ্য পৌঁছে দেওয়া শুধু গণমাধ্যমের দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থারও একটি অপরিহার্য অংশ।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিজস্ব অনলাইন মিডিয়া ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’ চালু হওয়াকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখা যায়। তবে যেকোনো প্রাতিষ্ঠানিক গণমাধ্যমের সফলতা নির্ভর করবে তার তথ্যের নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা, পেশাদারিত্ব এবং জনআস্থার ওপর।
সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রণয়ন বা প্রযুক্তি ব্যবহারই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দক্ষ জনবল, আধুনিক সাইবার অবকাঠামো, নিয়মিত নিরাপত্তা নিরীক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ এবং সর্বোপরি নাগরিকদের ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধি।
জাতীয় নিরাপত্তা আজ আর শুধু সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকা সৈনিকের কাঁধে নির্ভর করে না; এটি নির্ভর করে একটি দেশের সার্ভারের নিরাপত্তা, তথ্যের সত্যতা এবং ডিজিটাল সক্ষমতার ওপরও। তাই সাইবার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া সময়ের দাবি। সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি ডিজিটাল সীমান্ত সুরক্ষিত করাও এখন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কৌশলের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত।