প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬, ১০:২১ পিএম
হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ১০ম বার্ষিকী উপলক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সরকারের অবস্থান কঠোর এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা আদর্শিক কোনো কারণেই সন্ত্রাসবাদকে বৈধতা দেওয়া যায় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বুধবার (১ জুলাই) ঢাকায় ইতালি দূতাবাস আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, হলি আর্টিজান হামলা শুধু একটি সন্ত্রাসী ঘটনা নয়, এটি বাংলাদেশের সহনশীলতা, মানবতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ওপর পরিকল্পিত আঘাত ছিল।
অনুষ্ঠানে ২০১৬ সালের ওই নৃশংস হামলায় নিহতদের স্মরণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইতালি, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ও এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও নিহতদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, “১০ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই রাতের ক্ষত বাংলাদেশের জাতীয় চেতনা থেকে মুছে যায়নি। সেদিন সন্ত্রাসীরা আশা, মানবতা ও সহাবস্থানের মূল্যবোধকে আঘাত করতে চেয়েছিল।”
একজন মা হিসেবে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, সন্তান কিংবা স্বজন হারানোর বেদনা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, গত এক দশকে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, নাগরিক সমাজ, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নারী ও যুবসমাজসহ বিভিন্ন পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হামলায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরেও বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদ দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
হলি আর্টিজান হামলার পটভূমি
২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় ২০ জন নিরীহ মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি, একজন ভারতীয়, একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান দ্বৈত নাগরিক এবং দুইজন বাংলাদেশি। হামলাকারীদের ছোড়া গ্রেনেডে নিহত হন তৎকালীন ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাউদ্দিন আহমেদ।