প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
দৈনন্দিন জীবনে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নিয়মিত নখ কাটা। অনেকেই এটিকে সৌন্দর্যচর্চার বিষয় মনে করলেও চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নখ পরিষ্কার ও ছোট রাখা শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাত ও পায়ের নখ বড় হলে এর নিচে সহজেই ধুলাবালি, ময়লা, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, পরজীবীর ডিম ও ছত্রাক জমে থাকে। সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পরও বড় নখের নিচে জীবাণু থেকে যেতে পারে। এসব জীবাণু খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে ডায়রিয়া, খাদ্যবাহিত রোগ, পেটের সংক্রমণসহ বিভিন্ন অসুস্থতার কারণ হতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা রান্না করেন, শিশুদের দেখাশোনা করেন বা হাসপাতালে কাজ করেন, তাদের নিয়মিত নখ কাটা আরও বেশি জরুরি। কারণ তাদের হাতের মাধ্যমে সহজেই অন্যের শরীরে জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এছাড়া বড় নখ ভেঙে যাওয়া, নখের চারপাশে ব্যথা ও ফোলা (Paronychia), ছত্রাকজনিত সংক্রমণ এবং পায়ের নখ মাংসের ভেতরে ঢুকে যাওয়ার (Ingrown Toenail) ঝুঁকিও বেড়ে যায়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব সমস্যা গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে।
শিশুদের ক্ষেত্রেও নখ নিয়মিত কাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বড় নখ দিয়ে তারা নিজের ত্বকে আঁচড় লাগাতে পারে। একই সঙ্গে নখের নিচে থাকা জীবাণু হাতের মাধ্যমে মুখে চলে গিয়ে নানা ধরনের সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, নখের স্বাস্থ্যও শরীরের সামগ্রিক অবস্থার ইঙ্গিত দিতে পারে। নখের রং হঠাৎ পরিবর্তন, অতিরিক্ত মোটা বা ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া, কালো দাগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা বা ফোলা থাকলে তা রক্তস্বল্পতা, পুষ্টিহীনতা, ছত্রাক সংক্রমণ কিংবা অন্য কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
নখ কাটার সঠিক নিয়ম
• সপ্তাহে অন্তত একবার হাতের নখ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পায়ের নখ কাটুন।
• গোসলের পর নখ নরম থাকলে কাটা সহজ হয়।
• পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত নেল কাটার ব্যবহার করুন।
• হাতের নখ হালকা গোলাকার এবং পায়ের নখ সোজা করে কাটুন।
• নখের কিউটিকল কেটে ফেলবেন না, এটি সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
• অন্যের নেল কাটার ব্যবহার না করাই ভালো।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য নিয়মিত হাত ধোয়া, নখ পরিষ্কার রাখা এবং সময়মতো নখ কাটা একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর অভ্যাস। ছোট এই সচেতনতা শুধু ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতাই নিশ্চিত করে না, বরং পরিবার ও আশপাশের মানুষকেও বিভিন্ন সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে।